বাংলাদেশি হিসেবে প্রথম রিয়াদ ইউসুফ বিশ্বখ্যাত বিনিয়োগ ব্যাংক গোল্ডম্যান স্যাকসের পার্টনার

বাংলাদেশি হিসেবে প্রথম রিয়াদ ইউসুফ বিশ্বখ্যাত বিনিয়োগ ব্যাংক গোল্ডম্যান স্যাকসের পার্টনার

11/24/2022
বাংলাদেশের রিয়াদ ইউসুফ গোল্ডম্যান স্যাকসের অংশীদার হলেন
admin admin

 

মোহাম্মদ নয়ুম (রাউজান নিউজ):বাংলাদেশিদের মধ্যে প্রবাসী পশ্চিমা বিশ্বে অনেকে কৃতিত্বের স্বাক্ষর রাখছেন। সেই ধারায় লন্ডনপ্রবাসী বাংলাদেশি রিয়াদ ইউসুফ সর্বশেষ সংযোজন হচ্ছেন । বাংলাদেশি হিসেবে প্রথম তিনি বিশ্বখ্যাত বিনিয়োগ ব্যাংক গোল্ডম্যান স্যাকসের পার্টনার বা অংশীদার হিসেবে পদোন্নতি পেয়েছেন।

নভেম্বর মাসে তিনি প্রায় ৮০ জন কর্মীকে পদোন্নতি দিয়েছে, গোল্ডম্যান স্যাকস, তাঁর মধ্যে রিয়াদ ইউসুফ অন্যতম। গোল্ডম্যান স্যাকস সাম্প্রতিক বছরগুলোয় রেকর্ডসংখ্যক অশ্বেতাঙ্গ ও নারীকে অংশীদার পদে পদোন্নতি দিয়েছে। সেই ধারাবাহিকতায় এবার রিয়াদ ইউসুফ পদোন্নতি পেলেন।

গোল্ডম্যান স্যাকসের রিয়াদ ইউসুফ ইউরোপ, মধ্যপ্রাচ্য ও আফ্রিকা অঞ্চলের উপপ্রধান। তিনি ডয়চে ব্যাংক থেকে ২০১১ সালে গোল্ডম্যান স্যাকসের ব্যবস্থাপনা পরিচালক হিসেবে যোগ দেন।

তার বেড়ে ওঠা বাংলাদেশে। তাঁর বাবা-মা দুজনেই শিক্ষক। বয়স যখন তাঁর ১৬, তখন তাঁরা বাবা মার্কিন যুক্তরাষ্ট্রে গবেষণা করার সুযোগ পান। তিনিও মার্কিন যুক্তরাষ্ট্রের টেক্সাসে চলে আসেন। বিভিন্ন বিশ্ববিদ্যালয়ে ভর্তির আবেদন করতে করতে শেষমেশ মেইনের বেটস কলেজে গণিত ও পদার্থবিদ্যা পড়ার সুযোগ পান। পড়াশোনার জন্য বৃত্তি পেলেও তাঁকে সপ্তাহে ২০ ঘণ্টা কাজ করতে হয় অন্যান্য খরচ চালাতে।

রিয়াদ তৃতীয় বর্ষে পড়ার সময় বেশ ঋণগ্রস্ত হয়ে পড়েন। দেশে আসতে পারছিলেন না চার বছর ধরে । তখন একজন তাঁকে বলেন, সেবারের গ্রীষ্মে নিউইয়র্কে একটা কাজের সুযোগ আছে, তাতে ১০ হাজার ডলার মিলবে। সেই প্রতিষ্ঠান ছিল মেরিল লিঞ্চ। তিনি সাক্ষাৎকার দিয়ে কাজও পেয়ে যান।

এরপর গ্রীষ্মকালীন ইন্টার্নশিপ করে তিনি ১৯৯৯ সালে মেরিল লিঞ্চের বন্ড ট্রেডিং ফ্লোরে পূর্ণকালীন কাজ পান। সেখানে কঠোর পরিশ্রম করতে হয়েছে তাঁকে। এর বিকল্পও ছিল না তাঁর সামনে, কারণ সেখানে ভালো করতে না পারলে দেশে ফেরত যেতে হবে, সেটা তাঁর অভিপ্রেত ছিল না।

তবে রিয়াদের ওপর ফাইন্যান্সের জগতে কাজ করেও পরিবারের দিক থেকে বিদ্যায়তনে যাওয়ার চাপ ছিল । তাঁর ভাষ্য, এটি সাংস্কৃতিক বিষয়,তার বাবা-মা সন্তানকে চিকিৎসক, প্রকৌশলী বা শিক্ষক হিসেবে দেখতে চান, ব্যাংকার হিসেবে দেখতে চান না। এমনকি অংশীদার হিসেবে পদোন্নতি পাওয়ার পর তাঁর মা প্রথমে ঠিক বুঝতে পারেননি, তিনি কোন পদ পেয়েছেন। পরে অবশ্য গুগল করে তাঁর মা বুঝতে পেরেছেন, এই পদের মাহাত্ম্য কী। এখন তার মা খুশি ও গর্বিত। রিয়াদের আক্ষেপ, ভারত ও পাকিস্তানের মতো বাংলাদেশে বিশ্বমানের আর্থিক বিষয় পড়ানোর মতো শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান নেই। ফলে বাংলাদেশি তরুণ-তরুণীরা যাঁরা ট্রেডিং ফ্লোরে কাজ করেন, তাঁরা অক্সফোর্ড ও কেমব্রিজে যেতে না পারার কারণে একধরনের পরিচয়সংকটে ভোগেন। কিন্তু বিষয়টি এভাবে দেখার দিন শেষ হয়ে আসছে বলেই মনে করেন তিনি।

রিয়াদ ইউসুফের মা আনিসাতুল ফাতেমা ইউসুফ নাগরিক প্ল্যাটফর্মের সমন্বয়ক । এমন সাফল্যে স্বাভাবিকভাবেই তিনি উচ্ছ্বসিত। তিনি বলেন, ‘রিয়াদের এই পদোন্নতির খবর পাওয়ার পর অনেক মানুষ শুভেচ্ছা জানাচ্ছেন। ভালো লাগছে।

সন্তানের আর্থিক খাতে কাজ করা প্রসঙ্গে ফাতেমা ইউসুফ বলেন, ‘পরিবারের মধ্যে কেবল আমার ভাইয়ের ছেলে আর্থিক খাতে কাজ করে, ফলে এই সম্পর্কে আমাদের ধারণা ছিল না । সেই মেরিল লিঞ্চে ইন্টার্নশিপের খবরটা দেয়। মধ্যবিত্ত পরিবারে বেড়ে ওঠার কারণে আমার ছেলেও প্রথমে এই কাজে খুব একটা স্বস্তি পায়নি। আবার আমরাও চাপ দিচ্ছিলাম, যাতে সে অন্তত স্নাতকোত্তর করে। তখন সে বড় বড় তিনটি বিশ্ববিদ্যালয়ে আবেদন করে। শেষমেশ রিয়াদ স্ট্যানফোর্ড থেকে এমবিএ করে। তখন সে চাকরি ছেড়ে চলে যায়। তারপর লন্ডনে গিয়ে ডয়চে ব্যাংকে যোগ দেয়। সেখান থেকে গোল্ডম্যান স্যাকসে যোগ দেয়।’

তবে বড় পদে দায়িত্ব পাওয়া মানে ভার আরও বেড়ে যাওয়া, ফাতেমা ইউসুফ জানান, রিয়াদের সন্তান ইতিমধ্যে জিজ্ঞাসা করেছে, ‘বাবা, এই পদোন্নতির কারণে কি তোমাকে আরও বেশি কাজ করতে হবে।

রিয়াদ ইউসুফ পদোন্নতির খবর প্রকাশের কিছুদিন আগেই দেশে এসেছিলেন। লন্ডনে ফেরার দুই দিন পরেই এই খবর পান তিনি। ফলে এই সুখবর বাবা-মায়ের সঙ্গে অল্পের জন্য উদ্‌যাপন করার সুযোগ পাননি তিনি।





LEAVE A COMMENT

সোশাল মিডিয়া

ক্যালেন্ডার