হালদা নদীতে নৌযানে বালু উত্তোলন- হুমকির মুখে মৎস্য প্রজনন

81
হালদা

শাহাদাত হোসেন.(রাউজান নিউজ): প্রশাসনের চোখকে ফাঁকি- হালদা নদীতে নৌযানে বালু উত্তোলন- হুমকির মুখে মৎস্য প্রজনন  রাউজান- হাটহাজারী দু”উপজেলার প্রশাসনের চোখ ফাঁকি দিয়ে দক্ষিণ এশিয়ার একমাত্র প্রাকৃতিক মৎস্য প্রজনন ক্ষেত্র হালদা নদীতে ড্রেজার ও ডিজেল পাম্প বসিয়ে অবৈধভাবে বালু উত্তোলন ও বন্ধ হচ্ছে না মাছ শিকার । হালদা নদী থেকে উত্তোলন করা বালু যান্ত্রিক নৌযানে করে পরিবহন করছে নদী দিয়ে। হালদা নদীতে যান্ত্রিক নৌ-চলাচল নিষিদ্ধ থাকলে সরকারি নিষেধাজ্ঞাকে বৃদ্ধাঙ্গুলি দেখিয়ে হালদায় বালু ভর্তি যান্ত্রিক নৌ-চলাচল ও শিকার করা হচ্ছে মাছ।

সম্প্রতি রাউজান উপজেলা নির্বাহী অফিসার জোনায়েদ কবির সোহাগ রাউজানের নোযাজিশপুরের নদীমপুর ইন্দরাঘাট এলাকায় নদীতে ডিজেল পাম্প বসিয়ে বালু উত্তোলন করার সময়ে অভিযাণ চালিয়ে বালু উত্তোলনের সরঞ্জাম জব্দ করে আগুন লাগিয়ে ধ্বংস করে দেয় । হালদা নদীতে ইঞ্জিনচালিত যান্ত্রিক নৌযান চলাচলের ফলে হালদা নদী মা মাছ সহ জীববৈচিত্র হুমকির মুখে পড়েছে। প্রাকৃতিক মৎস্য প্রজনন ক্ষেত্র হালদা নদীতে মা -মাছের প্রজনন বৃদ্ধি করার লক্ষ্যে হালদা নদী সার বৎসর মাছ শিকার নিষিদ্ধ রয়েছে ,মৎস মন্ত্রণালয়ে। এরপরে নিষেধাজ্ঞা অমান্য করে নদীতে প্রতিনিয়ত ড্রেজার দিয়ে চলছে বালু উত্তোলন, ঘেরজাল, হাত জাল ও বড়শী দিয়ে করছে মাছ শিকার। হুমকির মুখে মৎস্য প্রজনন ।

চট্টগ্রাম জেলা প্রশাসক হালদা নদীর মা মাছ রক্ষায় হালদা নদী কোন বালু মহল ইজারা দেয়নি। কোন বালু মহল ইজারা দেয়া না হলেও রাত ,দিন হালদা নদীর বিভিন্ন স্থানে ড্রেজার ও ডিজেল পাম্প বসিয়ে বালু উত্তোলন করছেন প্রভাবশালী ব্যক্তিরা। রাউজান ও হাটহাজীর উপজেলা প্রশাসনের অভিযাণ সত্ত্বেও প্রশাসনের চোখকে ফাঁকি দিয়ে নদীর বিভিন্ন স্থানে ড্রেজার ও ডিজেল পাম্প বসিয়ে দু” উপজেলার বিভিন্ন অংশে উত্তোলন করা হচ্ছে বালু। বালু উত্তোলন ও মাছ শিকার করার সময়ে হাটহাজীর উপজেলার নির্বাহী অফিসার রুহুল আমিন নদীতে অভিযাণ চালিয়ে বিপুল পরিমাণ মাছ শিকার করা ঘের জাল জব্দ ও বালু উত্তোলনের সরঞ্জাম জব্দ করে।

রাউজান উপজেলা সিনিয়র মৎস্য সম্প্রসারণ কর্মকর্তা আব্দুল্লাহ আল মামুন জানান, হালদা নদীতে দুু” দফা অভিযাণ চালিয়ে নদী থেকে মাছ শিকার করার সময়ে ১০হাজার মিটার জাল জব্দ করে আগুনে পুড়ে ধ্বংস করা হয়। গত কয়েকদিন আগে হালদা নদীতে জাল বসিয়ে মাছ শিকার করার সময়ে রাউজানের পশ্চিম গুজরা ইউনিয়নের মগদাই, আজিমের ঘাট, উরকিরচর ইউনিয়নের পশ্চিম আবুর খীল এলাকায় গবীর রাতে উপজেলা সহকারী ভূমি কমিশনার এহাসান মুরাদসহ মৎস্য অফিসের কর্মকর্তাদের নিয়ে অভিযাণ চালিয়ে হালদা নদী থেকে ১হাজার ৫শত মিটার দৈঘ ঘের জাল জব্দ করে । এরপরও জাল ও বড়শী বসিয়ে শিকার করা হচ্ছে মাছ এসব এলাকায়। চলাচল করছে প্রতিনিয়ত ইঞ্জিনচালিত নৌযানও। ইঞ্জিনচালিত নৌযানের পাখার আঘাতে নদীতে মারা যাচ্ছে ডলফিনসহ বিভিন্ন প্রজাতির মাছ। এভাবে হালদা নদীতে ড্রেজার ও ডিজেল পাম্প বসিয়ে বালু উত্তোলন করে যান্ত্রিক নৌযান চলাচল অব্যাহত থাকলে নদীর পরিবেশ মাছের প্রজননের প্রতিকূলে চলে যাবে ।

রাউজান উপজেলা মৎস্য সম্প্রসারণ কর্মকর্তা আব্দুল্লাহ্ আল্ মামুন জানান, হালদা নদী বাংলাদেশের দক্ষিণ-পূর্বাঞ্চলের পাহাড়ি জেলা পার্বত্য চট্টগ্রামের বদনাতলী নামক পাহাড় হতে উৎপন্ন হয়ে ফটিকছড়ি, হাটহাজারী, রাউজান উপজেলা এবং চট্টগ্রাম সদরের কোতোয়ালী থানার মধ্য দিয়ে প্রবাহিত হয়ে কালুরঘাটের নিকটে কর্ণফুলী নদীর সাথে মিলিত হওয়ায় হালদা নদীর দৈর্ঘ্য প্রায় ৮১ কিলোমিটার। হালদা নদীর সঙ্গে সংযুক্ত আছে ছোট বড় ৯টি খাল । হালদা নদীতে চৈত্র মাস থেকে ভাদ্র মাস পর্যন্ত রুই, কাতলা, মৃগেল , কালিবাউস মা মাছ ডিম ছাড়ে। মা মাছ ডিম ছাড়ার মৌসুমে সার বছর যান্ত্রিক নৌযান চলাচল ও মাছ শিকার নিষিদ্ধ করা হয়েছে। নিষেধাজ্ঞা থাকার পরও কিছু অসাধু মাছ শিকারী ও ড্রেজার দিয়ে যান্ত্রিক নৌযান করে বালু উত্তোলন ও মাছ শিকার করছে। এতে মা মাছের প্রজনন হুমকির মুখে পড়েছে । তিনি বলেন প্রশাসনের পক্ষ থেকে এসব বালু উত্তোলনকারী ও মাছ শিকারকারীর বিরুদ্ধে অভিযাণ চলচে ও ভবিষ্যতে অভিযাণ চালানো হবে।

রাউজান নিউজ.আমির হামজা.বার্তা বিভাগ_প্রয়োজনে-01559633080

LEAVE A REPLY

Please enter your comment!
Please enter your name here