রাউজান নিউজ

স্বামী হারা একজন আত্মপ্রত্যয়ী মনিরার জীবন যুদ্ধের সাথে বই এর সখ্যতা

মীর আসলাম (রাউজাননিউজ) ঃ
আমান বাজার খন্দকিয়া গ্রামের মেয়ে মনিরা ইয়াছমিন। ২০০৬ সালে পড়তেন অষ্টম শ্রেণিতে। ওই সময় বাবা-মা তার বিয়ে ঠিক করেন রাউজানের পশ্চিম গুজরা ইউনিয়নে মগদাই গ্রামের দুবাই প্রবাসী আয়ুব আলীর সাথে। বিয়ের পর তাদের সংসারে আসে দুই কন্যা সন্তান। স্বামীর সংসারে দুই কন্যা সন্তানকে নিয়ে বেশ সুখিই ছিলেন মনিরা। তার সুখের সংসারের ছন্দপতন ঘটে ২০১৬ সালে স্বামী আয়ুব আলী হঠাৎ ষ্টোক করে মারা গেলে। মনিরা অল্প শিক্ষিত হলেও তার মনন মেধা,ধর্য্য খুবই উন্নত।

স্বামীর মৃত্যুর পর চোখে মুখে অন্ধকার দেখলেও তিনি শোককে পরিণত করেন শক্তিতে। তার সংকল্প স্বামীর ঘরে থেকে জীবন যুদ্ধে থাকবেন দুই সন্তানকে নিয়ে। যতই কষ্ট করতে হয় দুই সন্তানকে পড়ালেখা করিয়ে উপযুক্ত করবেন। তিনি প্রথম এক বছর শোকে দুখে তার সময় কাটলেও স্বপ্ন দেখেন আত্মনির্ভরশীল হওয়ার। স্থানীয়দের মাধ্যমে খবর পান তারই গ্রামের অদুরে কালসারাল পার্ক নামের একটি সামাজিক প্রতিষ্ঠানে বিভিন্ন ট্রেড কোর্সে প্রশিক্ষণ দেয় ফ্রি’তে। এমন সংবাদে তার বুকে আশার সঞ্চার হয়। ছুটে যায় সেখানে। দেখা করেন ওই প্রতিষ্ঠানের প্রতিষ্ঠাতা ডা. নান্টু বড়ুয়ার সাথে। তিনিই তাকে সেলাই প্রশিক্ষণ কাজে ভর্তি করান। এখানে বলা প্রয়োজন যে, এই প্রতিষ্ঠানে রয়েছে একটি লাইব্রেরী। যেখানে আছে বিভিন্ন স্বাদ রুচির বই। মনিরার আগে থেকেই ছিল বই পড়ার অভ্যাস। কাজের শেষে গিয়ে বসতেন ওই লাইব্রেরীতে বই নিয়ে।

এভাবে মনিরা এই প্রতিষ্ঠান থেকে সেলাই কাজ শিখেন, পাশাপাশি আয়ত্ব করেন এখানে ব্যাগ বুননের কাজ। সেলাই কাজ শিখে তিনি কিনেছেন মেশিন, এই মেশিনে কাজ করেন অডার নিয়ে। একই সাথে কালসারাল পার্কের কুটির শিল্পে তিনি ব্যাগ বুনে তার বাড়তি আয়েরও সুযোগ হয়। আগেই বলা হয়েছে মনিরার রয়েছে বই এর প্রতি বিশেষ আগ্রহ। বই পাগল এই মনিরা এখন এলাকার নারী শিশুদের কাজে পরিচিতি লাভ করেছেন বই আপা, বই ভাবী হিসাবে। আত্মপ্রত্যয়ী মনিরা তার জীবন সংগ্রাম প্রসঙ্গে বলেন আমার এই সাধনায় প্রেরণা যুগিয়েছেন কালসারাল পার্কের প্রতিষ্ঠাতা শ্রদ্বেয় ডা. নান্টু দাদা। তিনি আমাকে অত্মনির্ভরশীল হতে শিখিয়েছেন, এলাকার নারী শিশুদের কাছে সম্মানিত করেছেন বই আপা, বই ভাবী হিসাবে পরিচিত করে। বই নিয়ে তার পরিচিতির নেপথ্যে কাহিনী তুলে ধরে বলেন আমি যখন কাজের শেষে লাইব্রেরীতে বই নিয়ে পড়তাম তখন অনেক সময় বিষয়টি খেয়াল করতেন নান্টু দাদা, একদিন তিনি আমাকে হেসে হেসে বলেন মনিরা বই শুধু তুমি পড়লে হবে ? পাড়ার নারী শিশুদেরকেও বই পাঠে আগ্রহী করতে হবে না? তার জানতে চাইলাম কি ভাবে করবো। তিনি বললেন প্রথমে তোমার গ্রাম থেকে শুরু করো। যাওয়ার সময় লাইব্রেরী থেকে শিশু ও নারীদের পছন্দের কয়েকটি বই নিয়ে তাদের দাও। পড়া শেষে আবার নিয়ে এসো। এভাবেই তো পাঠক সৃষ্টি হবে।

নান্টু দাদার এমন অনুপ্রেরণায় আমি প্রতিদিন বাড়ি যাওয়ার পথে শিশু ও নারীদের জন্য বই নিতে থাকি। এভাবে সাড়া পড়ে বই পাঠে আগ্রহী নারী শিশুদের। আমি এখন কয়েকটি গ্রামে তাদের বই দিয়ে আসি। তারা পড়া শেষ করে নতুন বইয়ের জন্য অনুরোধ করেন। এই কাজ করে আমি সবার কাছে সম্মানিত হয়েছি। আমাকে তারা বই আপা, বই ভাবী হিসাবে সম্বোধন করে। বড়রা স্নেহ করে, ছোটরা শ্রদ্ধা করে, বোন হিসাবে সকলেই ভালবেসে।
মনিরার দুই সন্তানের একজন জান্নাতুল নাঈমা(১৪) উরকিরচর ইউনিয়নের আবুরখীল অমিতাভ উচ্চ বিদ্যালয়ের নবম শ্রেণি ও ছোট সন্তান জন্নাতুল ফেরদৌস(৮) মগদাই ইসলামীয়া সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ের দ্বিতীয় শ্রেণিতে পড়ে।
মনিরা জানায় গত এক বছরে তার মাধ্যমে পাঠক সংখ্যা বেড়েছে ৭’শ। নান্টু দাদার সাথে আমাকে একাজে সহায়তা করছেন কারসারাল পার্কের রত্না ম্যাডাম ও মোহাম্মদ ইরফান।

Mir Islam

Add comment

Follow us

Don't be shy, get in touch. We love meeting interesting people and making new friends.

নামাজের সময়সূচী

    চট্রগ্রাম
    Monday, 21st September, 2020
    SalatTime
    Fajr4:31 AM
    Sunrise5:47 AM
    Zuhr11:51 AM
    Asr3:17 PM
    Magrib5:56 PM
    Isha7:11 PM

এ বি এম ফজলে করিম চৌধুরী এমপি এর উদ্যোগ সমগ্র রাউজানে ৪ লক্ষ ৫০ হাজার ফলজ চারা রোপন কর্মসূচী

ভয়াবহ আগুন থেকে রক্ষা পেল রাউজানে তাপ বিদ্যুৎ কেন্দ্রে

Most popular

Social Media