স্বজনদের অসহযোগিতা: নিজ বাড়ির কবরস্থানে ঠাঁই হলো না শিক্ষক আনোয়ার হোসেনের দেহ

282

স্বজনদের অসহযোগিতা: নিজ বাড়ির কবরস্থানে ঠাঁই হলো না শিক্ষক আনোয়ার হোসেনের দেহ

মীর আসলাম (রাউজন নিউজ)ঃ

শ্বাস কষ্ট নিয়ে গত বৃহস্পতিবার রাতে রাঙ্গুনিয়ায় মারা গিয়েছিল রাউজান নোয়াপাড়ার সন্তান রাঙ্গুনিয়া সেলিমা কাদের চৌধুরী কলেজের শিক্ষক আনোয়ার হোসেন। তিনি বিগত প্রায় ১০ বছর ধরে পরিবার নিয়ে থাকতেন ওই উপজেলার মরিয়মনগর এলাকায় ভাড়া বাসায়। বৃহস্পতিবার থেকে তার শ্বাস কষ্ট শুরু হলে সন্ধ্যার পর পরিবারের সদস্যরা তাকে নিয়ে যায় ওই উপজেলার একটি স্বাস্থ্য কেন্দ্রে। সেখানে রাতে তার মৃত্যু হলে শিক্ষক পরিবারের অসহায় সদস্যরা রাতে একটি এ্যাম্বুলেন্সে লাশ দাফনের জন্য নিয়ে আসে শিক্ষকের পৈত্রিক ভিটা নোয়াপাড়ার মুকার দিঘি এলাকায়। শোকাহত সদস্যরা নিজেদের বাড়িতে এসে কান্নাকাটি করে লাশ দাফনে স্বজনদের সহযোগিতা কামনা করেন। নিষ্ঠুর স্বজন ও বাড়ির লোকজন একাজে কেউ এগিয়ে আসছে না দেখে দীর্ঘক্ষণ অপেক্ষা শেষে তারা আবার লাশ নিয়ে ফিরে যায় রাঙ্গুনিয়ায়। সর্বশেষ গভীর রাতে রাঙ্গুনিয়ায় ওই শিক্ষককে দাফন কাজ শেষ করেন স্থানীয় গাউছিয়া কমিটির স্বেচ্ছাসেবীরা থানা পুলিশের সহায়তায়।

নোয়াপাড়া মুকারদিঘি এলাকার কতিপয় মানুষের এমন নিষ্ঠুরতা সংবাদ সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে প্রকাশ পেলে অনেকেই ক্ষোভে ফেটে পড়ে এই ঘটনায় দায়িদের চিহ্নীত করে শাস্তির দাবি জানায়।

এ প্রসঙ্গে নোয়াপাড়া ইউনিয়নের প্যানেল চেয়ারম্যান বাবুল মিয়া মেম্বার দাবি করেন তিনি ঘটনা শুনে গ্রামের লোকজনকে কবর তৈরী করতে বলেছিলেন। গ্রামের মানুষ কবর তৈরীর প্রস্তুতিও নিচ্ছিল। শোকাহত পরিবারের সদস্যরা ধর্য্যধারণ না ধরে লাশ নিয়ে ফিরে যায়। পথে এ্যাম্বুলেন্স আটকিয়ে তাদের না যাওয়ার অনুরোধ করেও তাদের থামানো যায়নি। লাশ দাফন কাজে মানুষের এমন নিষ্ঠুরতার ঘটনা শুনে রাউজানের সাংসদ এবিএম ফজলে করিম চৌধুরী ক্ষুদ্ধ প্রতিক্রিয়া ব্যক্ত করেন। তিনি ঘটনা তদন্তে নিদ্দেশ প্রদান করেন থানার ওসিকে। তদন্তে এসে শুক্রবার রাউজান থানার ভারপ্রাপ্ত কমকতা কেপায়েত উললাহ বাবুল মিয়ার দাবির সাথে ঐক্যমত পোষণ করে বলেন গ্রামের মানুষ কবর তৈরীর প্রস্তুতি নেয়ার অপেক্ষা না করে শোকাহত পরিবারের সদস্যদের লাশ নিয়ে ফিরে যায়।

LEAVE A REPLY

Please enter your comment!
Please enter your name here