রাউজান সপ্তসুর সংগীত বিদ্যানিকেতনের পঞ্চবর্ষ পূর্তি

133

মীর আসলাম(রাউজাননিউজ).
‘সংগীত শুধু গান নয়, এটি একটি সাধনার মাধ্যমও বটে। বিশ্ব কবি রবিন্দ্রনাথের হাজারো ছন্দের রচিত অনেক গুলো গান কবিতার মধ্যে একটি –
নৃত্যের তালে তালে,নটরাজ, ঘুচাও ঘুচাও ঘুচাও সকল বন্ধ হে।
সুপ্তি ভাঙাও, চিত্তে জাগাও মুক্ত সুরের ছন্দ হে ॥
তোমার চরণ পবন পরশে সরস্বতীর মানস সরসে
যুগে যুগে কালে কালে সুরে সুরে তালে তালে
ঢেউ তুলে দাও, মাতিয়ে জাগাও অমল কমলগন্ধে হে ॥
সঙ্গীত নিয়ে যারা গবেষণা করেন তাদের মতে যারা সঙ্গীত সাধনা, নৃত্য-গীত কিংবা সাহিত্য সংস্কৃতির চর্চা করেন তারাই আলোকিত হৃদয়ের অধিকারী। সকল প্রকার সংকীর্ণতার ঊর্ধ্বে থাকা এসব মানুষের অন্তর থাকে ফুলের মত সজীব। সঙ্গীত বিদ্বেষী মানুষের মনে লুকায়িত থাকে কূপমন্ডুকতা, সাম্প্রদায়িকতা আর মৌলবাদ। সঙ্গীত চর্চা দেখলেই তাদের বিবেক কুঁড়ে কুঁড়ে খায় তাদের বলা যায় নারকীয় কিট। আজকের এই যুগে সমাজ থেকে অপসংস্কৃতির ধারাকে নির্বাসিত করার প্রত্যয়ে রাউজানে দীর্ঘ সময় ধরে কাজ করছেন সপ্তসুর সংগীত বিদ্যানিকেতন।

এই প্রতিষ্ঠানটি প্রতিষ্ঠা পেয়েছিল পাঁচ বছর আগে। এলাকার সঙ্গীত প্রিয় মানুষের গড়া ওই প্রতিষ্ঠানে পঞ্চবার্ষিকীর অনুষ্ঠানটি ছিল গত শুক্রবার। পৌরসভার আট নং ওয়ার্ডের ব্যারিস্টার সুরেশ বিদ্যায়তনে বর্ণাঢ্য এক অনুষ্ঠানের মাধ্যমে সাজানো হয়েছিল পঞ্চবার্ষিকী পূর্তির অনুষ্ঠানটি। সংগঠনের শিল্পিরা গান নাচে অংশ নিয়ে দর্শক মাতিয়েছেন। এ উপলক্ষে আয়োজিত আলোচনা সভা, সাংস্কৃতিক প্রতিযোগিতার পুরষ্কার বিতরণ সভায় প্রধান অতিথি ছিলেন রাউজান পৌরসভার দ্বিতীয় প্যানেল মেয়র উপজেলা যুবলীগের সভাপতি জমির উদ্দিন পারভেজ। সপ্তসুর সংগীত বিদ্যানিকেতনের পরিচালক বাসু কুমার শীলের সভাপতিত্বে বিশেষ অতিথি ছিলেন ব্যারিস্টার সুরেশ বিদ্যায়তনের প্রধান শিক্ষক অশোক কুমার সরকার, সিনিয়র শিক্ষক রনজিত কুমার দে, মধ্য রাউজান সরকারী প্রাথমিক বিদ্যালয়ের প্রধান শিক্ষক মিন্টু রুদ্র পাল, রাউজান সাংবাদিক কল্যাণ সমিতির সভাপতি প্রদীপ শীল।

সাধারণ সম্পাদক সন্জয় তালুকদারের পরিচালনায় অনুষ্ঠানে অন্যান্যদের মাঝে বক্তব্য রাখেন, সংগীত শিল্পি অরুন পালিত, সদিপ দত্ত, অরুন নাথ প্রমূখ। মানবাতাবাদী সংগঠক প্রধান জমির উদ্দিন তার বক্তব্যে বলেন, সংগীত শুধু গান নয়, এটি একটি সাধনার মাধ্যাম। যত বেশি সংগীত চর্চা হবে, তত বেশি মানুষ তার মনের পবিত্রতা খুঁজে পাবে। তিনি বলেন, শুদ্ধ উচ্চারণের মাধ্যমে সংগীতের বিকাশ ঘটাতে পারলে বিকৃত সংগীত চর্চা চিরতরে বিদায় নেবে। আলোচনা সভা শেষে সাংস্কৃতিক প্রতিযোগিতায় অংশ নেয়া শিশু শিল্পীদের হাতে স্বীকৃতি সনদ ও পুরস্কার তুলে দেন প্রধান অতিথিসহ অন্যরা।#

LEAVE A REPLY

Please enter your comment!
Please enter your name here