রাউজানে ফানিচার মিস্ত্রী থেকে কোটিপতি

261

অামির হামজা (রাউজান নিউজ)♦ রাউজানে ফানিচার মিস্ত্রী থেকে কোটিপতি। চট্টগ্রামের রাউজানে হলদিয়া ইউনিয়নের ননা মিয়া মিস্ত্রি (৪০) প্রকাশে বৈদ্যে। এলাকার স্থানীয় একটি ছোট বাজারে দোকানে তিনি তৈরী করতে বাসা বাড়ীর ফানিচার। বাবা ছিলেন ঝাড় ফুক করার বৈদ্য । বাবা মারা যাওয়ার পর ওই পেশাকে জড়িত হয় কাঠ মিস্ত্রী ননা মিয়া। তার কলা-কৌশলী তৎপরতায় অল্প সময়ে পরিচিতি লাভ করেন ননা বৈদ্য নামে। কাঠ মিস্ত্রী ননার নাম যশ ছড়িয়ে পড়ার সাথে সাথে বদলে যায় তা ভাগ্যও। মালিক হন বিশাল সম্পত্তির। গড়ে তোলেন দৃষ্টিনন্দন বিশাল বাড়ী। এক একরেরও বেশি জায়গা জুড়ে পাকা দেয়ালের বেষ্টনীর ভিতর তৈরী করেছেন নিজের এই স্বপ্ন কুঠির। এই কুঠিরের ভিতরের কার কাজ কিভাবে করেছেন তা দেখার সৌভাগ্য না হলেও কুঠিরের সামনের অংশটুকু দেখলেই বুঝা যায়, ননা বৈদ্য কতটুকু বিলাসী জীবন যাপনে অভ্যস্থ। ঘরের বাইরে রয়েছে তার দৃষ্টিনন্দন সুইমিং পোল, রাখা হয়েছে দুই পার্শ্বে সিঁড়ি। সুইমিং পোলের মধ্যখানে মিনারের মত করে লাগানো হয়েছে পানির ঝর্ণা।

এলাকার লোকজনের সাথে কথা বলে জানা যায়, এখানে যারা চিকিৎসা নিতে আসেন, তারা এলাকার কেউ নয়। আসা যাওয়ায় থাকা বেশির ভাগ লোক দেখা যায় অপরিচিত। শুনা যায়, ননা বৈদ্য চিকিৎসা দেন মরণ ব্যাধি ক্যান্সার থেকে শুর করে, বশিকরণ, তন্ত্রমন্ত্রের গুনে জীবন নাশ ঝুঁকিতে থাকা নারী পুরষের। ঝাড় ফুক আর তন্ত্রমন্ত্র দিয়ে লাউ,ডাব কাটার পাশাপাশি পানি পড়া ও তাবিজ কবজ দিয়ে চলে তার চিকিৎসা।

প্রায় প্রতিদিন সকাল বিকাল ননা মিয়ার বাড়ী আসেন রোগাক্রান্ত নারী পুরষরা। এখানে আসেন বেশি নারী রোগী। চিকিৎসা নিয়ে যাওয়ার আগেই বৈদ্যের হাতে দিয়ে যান হাদিয়া। দুই মুসলিম নারী প্রায় পাঁচ বছর বয়সী শিশুকে এখানে চিকিৎসা নিতে এসেছিলেন হাটহাজারী উপজেলা থেকে। নিজেদের নাম পরিচয় না জানালেও বলেছেন প্রবাসী স্বামীর আচার আচরণ গত কয়েক মাস ধরে বদলে যাওয়ায় তাদের সন্দেহ হচ্ছে। কেন এভাবে বদলে গেল তা দেখতে এখানে এসেছেন। এখানে আগে এসেছিলেন কিনা জানতে চাইলে বলেন মানুষের মুখে ননা বৈদ্যের সুনাম শুনে তারা প্রথমবার এখানে এসেছেন।

স্থানীয়রা বলেছেন ননা বৈদ্যের হয়ে প্রচারণায় আছেন অনেক লোক, এলাকার কতিপয় প্রভাবশালী ব্যক্তির সাথেও ননা বৈদ্যের রয়েছে সখ্যতা। কিছু প্রভ্বাশালী লোক এসব ভন্ড বৈদ্যে গুলোর সাথে টাকার বিনিময়ে সমাজে খারাপ কাজ গুলো করতে উৎসাহ যোগান। দুই সন্তানের জনক ননা মিয়ার সাথে কথা বলার জন্য ওই বাড়ীতে গেলে দেখা যায়, বাড়ীর ভিতর তিনজন লোক ননা মিয়ার সুইমিং পোলটি ঘুরে দেখছেন। ঘরের দরজায় দাড়িয়ে থাকা তার এক ছেলে জানায় সকালে রোগীদের চিকিৎসা দিয়ে তার বাবা বাইরে চলে গেছে।

রাউজান নিউজ/অামির হামজা.বার্তা বিভাগ

LEAVE A REPLY

Please enter your comment!
Please enter your name here