রাংগুনিয়ার শিক্ষার অন্যতম বাতিঘর মাওলানা সাইফুল হক

205
কাজী আবু মোহাম্মদ খালেদ নিজাম ♦
রাংগুনিয়ার শিক্ষার অন্যতম বাতিঘর মাওলানা সাইফুল হক। মাওলানা সাইফুল হক।রাংগুনিয়া উপজেলার শিক্ষাক্ষেত্রে একটি সুপরিচিত নাম।বিশেষ করে প্রাথমিক শিক্ষায়।উপজেলার প্রাণকেন্দ্র মরিয়ম নগর ইউনিয়নের সম্ভ্রান্ত একটি মুসলিম পরিবারে তাঁর জন্ম।পিতা মাওলানা আবদুল গফুর ছিলেন একজন স্বনামধন্য আলেম।মাওলানা সাইফুল হক নিজেও একজন শিক্ষক ছিলেন।রাংগুনিয়ার শিলক হাইস্কুলে হেড মাওলানা হিসেবে দীর্ঘদিন কর্মরত ছিলেন।আমি এখানে শিক্ষাক্ষেত্রে তার অবদান সম্পর্কে সংক্ষেপে আলোচনা করব। পিছিয়ে পড়া এই অঞ্চলে মাওলানা সাইফুল হক সাহেব ব্যাপক প্রচেষ্টা চালিয়ে অনেককে  শিক্ষা ও শিক্ষকতায় আগ্রহী করে তোলেন। এক্ষেত্রে বাদ যাননি মুসলিমরা তো বটেই হিন্দু সম্প্রদায়ের শিক্ষিত লোকজনও।উপজেলার এমন কোন ইউনিয়ন নেই যেখানে তিনি সে সময় শিক্ষকতা পেশা বিশেষ করে প্রাথমিক শিক্ষক হিসেবে প্রতিষ্ঠা পেতে মানুষকে সহযোগিতা দেননি।অনেকে যা এখনো ভুলতে পারেন না।শুধু প্রাথমিক শিক্ষা নয় মাধ্যমিক শিক্ষার প্রসারেও তাঁর অবদান রয়েছে।বিভিন্ন স্কুল,মাদ্রাসা,কলেজ ও মসজিদ প্রতিষ্ঠায় তিনি অগ্রনী ভূমিকা পালন করেন।গরিব ও মেধাবি অনেক ছাত্রছাত্রীকে তিনি নিজের অর্থ ও সম্ভব সব ধরণের সাহায্য করেন। মাওলানা সাইফুল হক সাহেবের অন্য এক ভাই মরহুম জনাব হাসান মাস্টার মরিয়ম নগর ইউনিয়নে শিক্ষার প্রসারে ব্যাপক অবদান রাখেন।মূলত: তাঁর প্রচেষ্টায় মরিয়ম নগর হাইস্কুলটি প্রতিষ্টা পায়।আমার দাদা মরহুম জনাব কাজী আবদুল হক মাস্টার ও মাওলানা সাইফুল হক সাহেব একে অপরের সাথে খুব ঘনিষ্ট ছিলেন।ছিলেন পারিবারিক সম্পর্কের মতো।মাওলানা সাইফুল হক সাহেব মরিয়ম নগর সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয় সহ বহু শিক্ষা প্রতিষ্ঠানের সভাপতি ও বিভিন্ন পর্যায়ে দায়িত্ব পালন করেন।আমরা নিজেরাও তাঁর এ অবদানের কথা জেনেছি,শুনেছি।স্নেহ করতেন আমাকে খুব।লম্বা,চওড়া সফেদ দাড়ি ওয়ালা এ গুণী মানুষটিকে আজো অনেকে স্মরণ করেন।আলোচনা করেন শিক্ষাক্ষেত্রে তাঁর অসামান্য অবদান সম্পর্কে।আমি মরহুম মাওলানা সাইফুল হক সাহেবের মাগফিরাত কামনা করছি।আল্লাহ্ যেন তাকে বেহেস্ত নসিব করেন।আমিন।
★লেখক : শিক্ষক ও প্রাবন্ধিক

LEAVE A REPLY

Please enter your comment!
Please enter your name here