ময়মনসিংহের মুক্তাগাছার বিখ্যাত মন্ডার স্বাদই আলাদা

144

রাউজান ব্যুরো ♦

ময়মনসিংহের মুক্তাগাছার বিখ্যাত মন্ডার স্বাদই আলাদা”

ময়মনসিংহের মুক্তাগাছা উপজেলার দেশখ্যাত গোপাল পালের মন্ডার স্বাদই আলাদা। সে আদিকাল থেকে মুক্তাগাছার মন্ডার ব্যাপক চাহিদা রয়েছে দেশ বিদেশে। ১৮২৪ সালে মন্ডার আবিস্কার করেন গোপাল পাল নামের ব্যাক্তি। চিনি আর দুধের চানা দিয়ে তৈরী এমন্ডার চাহিদা রয়েছে ব্যাপক। বিখ্যাত মন্ডার দোকান ও কারখানাটি মুক্তাগাছা উপজেলার জগৎ কিশোর রোডে অবস্তিত।

সরেজমিন দেখাগেছে, দোকানে ভীর লেগেই রয়েছে। দোকানে বসে মন্ডা খাচ্ছে আবার অনেকেই কেজি হিসাবে কিনে নিচ্ছেন। ১২৩১ বাংলায় চালু হওয়া মন্ডার দোকানটি বন্ধ হয়নি কখনো। বংশ পরাক্রমায় গোপাল পালের উত্তরসোরীরা ধরে রেখেছেন সে ঐতিহ্যবাহী মন্ডার ব্যাবসাটি। স্থানিয় অনেকেই চেষ্টা করেছেন মন্ডা তৈরী করে বিক্রি করার। কিন্তু মন্ডা তৈরীতে কেও সফল হয়নি। গোপাল পালের বিখ্যাত মন্ডার স্বাদ সেকাল থেকে যেরকম বর্তমানে অবিকল। বাংলাদেশের প্রতিটি অঞ্চল থেকেই যারা ময়মনসিংহ যান প্রত্যকেই মন্ডার স্বাদ গ্রহন করে থাকেন। ঘুরে যান মুক্তাগাছার মন্ডার দোকানটিতে। স্বাদ পেয়ে অনেকে লোভ সামলাতে পারেন-না, নিয়েযান বাড়ী কিংবা আত্মিয় স্বজনেন জন্যও? বর্তমানে মন্ডার দোকানটি পরিচালনা করেন মেহের পাল নাথ। গরুর দুধের চানা আর চিনি দিয়ে তৈরি মন্ডা কেজি প্রতি ৫শ টাকা বিক্রি করা হয়। একপিচ ২৫ টাকা ধরে খুচরা বিক্রি করেন ক্রেতাদের কাছে। ২০টি মন্ডায় এক কেজি হয়ে থাকে। তদপুরী খেজুর গুরের মন্ডাও বিক্রি হয়ে কেজি প্রতি ৬‘শ করে। খুচরা বিক্রি হয় প্রতিটি ৩০ টাকা করে।প্রতিদিন লাখ টাকার মন্ডা বিক্রি হয়ে থাকে দোকানে। সকাল সাড়ে ৭টা থেকে বিক্রি শুরু হয়ে রাত সাড়ে ৯টা পর্যন্ত বিরতহীন বিক্রি চলে মন্ডার। বিশেষ করে প্রতি শুক্রবার মন্ডা কিনতে আসা মানুষের দীর্ঘ লাইন আর গাড়ির যানজট লেগেই থাকে। ঐ এলাকাটি বর্তমানে মন্ডার মোড় হিসাবে পরিচিত। শুক্রবার বিক্রির ধুম চলে।

স্থানিয় কাপড় ব্যাবসায়ী ৬৬ বছর বয়সি নিপন্দ দেবনাথ বলেন ৬০এর দশকে মন্ডা খেয়েছিলাম ৬ আনা ধরে। তখন মালিক ছিলেন খেঁদার নাথ পাল।মন্ডা খেলে সারাদিন কিছু খাওয়া লাগতোনা। স্বাদই ছিল সেরকম। বর্তমানে মন্ডা বানাতে স্থানিয় অনেকে চেষ্টা করেছেন কিন্তু কেও সফল হয়নি। গোপাল পালের মন্ডা দেশে বিদেশে কোথাও নেই। মন্ডার দোকানটি সরকারী বেসরকারী সহ বিভিন্ন পর্যায় থেকে পুরুস্কৃত হয়েছেন বহুবার। সে পুরানো সময়ের মন্ডার ইতিহাস বই পুস্তকে স্থান পেয়েছে। ২০১৪-২০১৫অর্থ বছরে অর্থ মন্ত্রনালয় থেকে সম্মামনা দেওয়া হয় মন্ডার দোকানকে। মন্ডার দোকানটির পশ্চিমপাশে পান দোকানী ৫০বছর বয়সি হরেন্দ বিশ্বাস বলেন আমি ৮০‘র দশকে আড়াই টাকা দিয়ে মন্ডা কিনে খাইছি।প্রতি বছর বছর আটানা ১টাকা বেড়ে এখন একটি মন্ডা ২৫ টাকা হইয়াছে।

জানাগেছে, নিজস্ব জমির উপর মন্ডার দোকানটি মুক্তাগাছার জন্য বড় একটি ইতিহাস বহন করে। প্রায় ১৯৫ বছর আগের মন্ডা আবিস্কারক গোপাল পালের নিজ বাড়ী মুক্তাগাছা উপজেলার ৩নং তাড়াটি ইউনিয়নের তাড়াটি গস্খামে। তাদের বংশ পরাক্রমে বর্তমানে ব্যাবসা পরিচালনা করছেন মেহের নাথ পাল। মাত্র ২৫ বছর বয়সে ১৮২৪ সালে মন্ডার ব্যবসা শুরু করেন গোপাল পাল। তিনি জম্মগ্রহন করেন ১৭৯৯ সালে, পরলোক গমন করেন ১৯০৭ ইংরেজীতে। তারপর মন্ডার হাল ধরেন গোপালের পুত্র রাঁধা নাথ পাল। তার জম্ম ১৮৬৩ মৃত্যু ১৯৩৪। তার মৃত্যুর পর হাল ধরেন রাঁধা নাথের পুত্র কেঁদার নাথ পাল। তার জম্ম ১৮৯৫ মৃত্যু ১৯৭৭। কেঁদার নাথের মৃত্যুর পর মন্ডার ব্যবসা পরিচালনা করেন তার পুত্র দাঁড়িকানাথ পাল। তার জম্ম ১৯২১ সালে, মৃত্যু ১৯৯৮ সালে। এরপর হাল ধরেন দাঁড়িকানাথের পুত্রগণ। এর মধ্য পুত্র রমেন্দ নাথ পাল এন্ড ব্রাদার্স দিয়ে যৌত ব্যবসার হাল ধরেন। বর্তমানে ব্যবসা পরিচালনা করছেন মেহের নাথ পাল। যে ভবনে গোপাল পাল মন্ডার আবিস্কার করেছিলেন সে পুরাতন বিল্ডিংটি ভেঙ্গে নতুন বিল্ডিং করার জন্য টিনের ঘেরাও করে রাখা হয়েছে। পাশের নিজস্ব ভবনে চলছে ব্যাবসা প্রতিষ্টান। মূল মন্ডার কারিগর প্রদিপ পাল সহ ৩০/৩৫ জন রয়েছে দক্ষ কর্মচারী। স্থানিয় কয়েকজন জানান দেশ বিদেশের ভিআইপিরা মন্ডা খেতে আসেন মুক্তাগাছায়। সব মিলিয়ে ইতিহাস হয়ে থাকা মন্ডার ঐতিহ্য থাকুক বছরের পর বছর সেটি কামনা মুক্তাগাছা বাসীর।

LEAVE A REPLY

Please enter your comment!
Please enter your name here