বৃদ্ধাশ্রম নয় পরিবার ও সন্তানই হোক বাবা মায়ের শেষ আশ্রয়স্থল

81

নিজস্ব সংবাদদাতা🌏 “বৃদ্ধাশ্রম মানে বৃদ্ধদের আশ্রয়স্থল। বর্তমান সময়ের দিকে লক্ষ্য করে বললে, বলতে হবে- বৃদ্ধ পিতা-মাতার জন্য পরিবার ও স্বজনদের থেকে আলাদা আবাস বা আশ্রয়ের নাম বৃদ্ধাশ্রম। মূলত অসহায় ও গরীব বৃদ্ধদের প্রতি করুণার বোধ থেকেই হয়ত বৃদ্ধাশ্রমের সৃষ্টি- যেখানে বৃদ্ধদের প্রয়োজনীয় সেবা ও আশ্রয়ের ব্যবস্থা ছিল। কিন্তু বৃদ্ধাশ্রমের সেই ছবি এখন আর নেই। এখন যা আছে তা হল, ছোট বেলায় যে বাবা-মা ছিলেন আমাদের সবচে’ বেশি আপন, যাদের ছাড়া আমরা কিছুই করতে পারতাম না, যারা নিজেদের আরাম হারাম করে আমাদের মানুষ করেছেন নিজের সব দুঃখ কষ্ট বুকে চেপে আমার হাসি মাখা মুখ দেখার জন্য যে মা ব্যকুল থাকতেন, আমি না খেলে যিনি খেতেন না, আমি না ঘুমালে যিনি ঘুমাতেন না, অসুস্থ হলে যিনি ঠায় বসে থাকতেন আমার শিয়রে, যে বাবা-মা তিলে তিলে নিজেদের সবকিছু বিসর্জন দিয়েছেন আমাকে মানুষ করার জন্য, সেই বাবা-মায়ের শেষ বয়সের ঠিকানা এখনকার বৃদ্ধাশ্রমগুলো। মানবতার প্রতি এ এক চরম উপহাস।

এক-দু’ দশক আগেও আমাদের দেশে বৃদ্ধাশ্রম তেমন একটা ছিল না। সময়ের সাথে সাথে এর সংখ্যা উত্তরোত্তর বৃদ্ধি পেয়েছে। কিন্তু কেন এই বৃদ্ধাশ্রম?

এ প্রশ্নের উত্তর বড়ই করুণ। যে সন্তান বাবা-মাকে ছাড়া এক মুহূর্ত থাকতে পারত না, মা-বাবাই ছিল যার সারা জীবনের আশ্রয়স্থল, সে কিনা আজ বাবা-মাকে নিজের কাছে রাখার প্রয়োজন বোধ করছে না, বাবা-মাকে ঝামেলা মনে করছে। তাঁদেরকে রেখে আসছে বৃদ্ধাশ্রমে। অথবা অবহেলা ও দুর্ব্যবহার করে এমন অবস্থার সৃষ্টি করছে যেন তারা নিজেরাই ভিন্ন কোনো ঠাঁই খুঁজে নেন। অনেকের ভাব এমন, টাকা পয়সার অভাব না থাকলেও বাবা-মাকে দেওয়ার মত সময়ের তাদের অভাব আছে। তাদের সঙ্গে কথা বলার মতো পর্যাপ্ত সময় তাদের নেই। তাই বাবা-মা একা নির্জনে থাকার চেয়ে বৃদ্ধাশ্রমে অন্যদের সঙ্গে কাটানোই নাকি ভালো মনে হয়।

এ ধরনের নানা অজুহাতে বাবা-মাকে দূরে সরিয়ে দেওয়া হচ্ছে। একসময় যারা নামী দামী ছিল বর্ণাঢ্য ছিল যাদের জীবন, বৃদ্ধ বয়সে এসে নিজ সন্তানদের অবহেলা ও বঞ্চনার শিকার হয়ে বহু পিতা-মাতা এখন বৃদ্ধাশ্রমের স্থায়ী বাসিন্দা হতে বাধ্য হচ্ছেন। পরিবার ও সন্তান থেকেও ‘সন্তানহারা এতীম’ হয়ে জীবন যাপন করছেন। এরচে’ বড় দুঃখ মা-বাবার জীবনে আর কিছুই হতে পারে না। বিভিন্ন সময়ই বৃদ্ধাশ্রম থেকে সন্তানের কাছে লেখা বৃদ্ধ পিতা-মাতার চিঠি পত্রিকায় ছাপা হয়। যা পড়ে চোখের পানি সংবরণ করা যায় না।

আমরা যারা বৃদ্ধ পিতা-মাতাকে অবহেলা করছি, তাদেরকে বোঝা মনে করছি, বৃদ্ধাশ্রমে তাদেরকে ফেলে রেখেছি, তারা কি কখনো ভেবে দেখেছি- আজ তারা বৃদ্ধ। তারা তো বৃদ্ধ হয়ে পৃথিবীতে আসেননি। তারা তো পরিবারের বোঝা ছিলেন না। বরং আমরা সন্তানরাই তো তাদের ‘বোঝা’ ছিলাম। তারা তো কখনো আমাদেরকে বোঝা মনে করেননি। আমাদেরকে বড় করে তোলার জন্য তারা বিন্দু পরিমাণ কমতি করেননি। কত যত্ন করে বুকে আগলিয়ে আমাদের লালন-পালন করেছেন ।

মা আমাদের জন্য কতই না কষ্ট করেছেন। গর্ভধারণের কষ্ট। প্রসবের কষ্ট। স্তন্যদানের কষ্ট। রাতের পর রাত নির্ঘুম কাটিয়ে দেয়ার কষ্ট। এ তো প্রাথমিক কষ্ট। এরপর প্রাপ্তবয়স্ক হওয়া পর্যন্ত মা আমাদের জন্য কত যে কষ্ট করেছেন, এর কোনো হিসেব নেই। পিতা-মাতার শোকর আদায়ের সবচে’ উপযুক্ত সময় হল তাদের বার্দ্ধক্য। কারণ এ সময় তারাও শিশুর মত হয়ে যান। নিজেরা কিছুই করতে পারেন না। সন্তানই তখন তাদের অন্ধের যষ্ঠি।

” মিলে মিশে আমরা” সংগঠনের উদ্যোগে রাউজানের আমেনা-বশর বয়ষ্ক পূনর্বাসন কেন্দ্রে দিনব্যাপী নানা কর্মসূচী পালন করতে গিয়ে নানা আলাপ চারিতায় অনুভুতিগুলো ব্যক্ত করেন সংগঠনের কর্মকর্তারা।কর্মসূচীর মধো ছিল পূনর্বাসিতদের সাথে আড্ডা,তাঁদের সুখ-দুঃখের স্মৃতি গুলো শোনা,খাবার পরিবেশনা ও আলোচনা সভা। সংগঠনের গ্রুপ মডারেটর সামীনা ইউসুফ কেয়ার সভাপতিত্বে অনুষ্ঠিত সভায় প্রধান অতিথি ছিলেন সোশ্যাল সার্ভিসেস ইউনিয়ন অব রাউজান এর আহবায়ক ও রাউজান সাহিত্য পরিষদের সভাপতি মোহাম্মদ মহিউদ্দিন ইমন।

সংগঠনের অন্যতম সদস্য,কবি এম সাইমন এর পরিচালনায় সভায় বক্তব্য রাখেন গ্রুপ মডারেটর জাহিদা সুলতানা, লুবনা বিনতে আহমদ, রবিউল হুসাইন রবি,গ্রুপ ফাউন্ডার ও এডমিন এরশাদুর রহমান,সম্মানিত সদস্য এ এইচ রুবেল তালুকদার, মমতাজ বেগম,জাবেদ হোসেন, সাইফুল ইসলাম সোহেল, পারভীন চৌধুরী, মামুন হোসাইন, শাহনিয়ার আকতার,জাহেদ চৌধুরী,সাজ্জাদ হোসাইন প্রমূখ।প্রধান অতিথি বলেন প্রত্যেক সন্তানের দায়িত্ব নিজ পিতা মাতার ভরন পোষন,সেবা শুশ্রূষা তথা তাঁদের প্রতি যত্নবাদ হওয়া। বক্তারা দৃঢতার সাথে আশাপোষন করে বলেন বৃদ্ধাশ্রম নয় পরিবার ও সন্তানই হোক বাবা মায়ের শেষ আশ্রয়স্থল।

রাউজান নিউজ.আমির হামজা.বার্তা বিভাগ ফোন-০১৫৫৯-৬৩৩০৮০  

 

LEAVE A REPLY

Please enter your comment!
Please enter your name here