বিকাশের প্রতারণার শিকার হয়ে আত্মহত্যা!

129

অামির হামজা (রাউজান নিউজ)♦ বিকাশের প্রতারণার শিকার হয়ে জীবন দিল কিশোরী শারমিন। মোবাইল ব্যাংক যেমন টাকা পাওয়ার দ্রুত অন্যতম একটি মাধ্যম, তেমনি অনেক জনপ্রিয় হয়ে পড়েছে দেশ জুড়ে। শুধু কি তাই প্রবাসীর এই সেবা গ্রহণ করছে প্রতিনিয়ত।

কিন্তু বিকাশে প্রতারণার ঘটনা নতুন কোন বিষয়, এখানে সকল শ্রেণীর-পেশার মানুষ লোভে পড়ে প্রতিনিয়ত এসব প্রতারণার ফাঁদে পা রাখছেন। অার লোভের কথা শুনে হারাছে টাকা।

দেশে মোবাইলে অর্থ লেনদেনে জনপ্রিয়তা পেয়েছে বিকাশ। কিন্তু এই মাধ্যমটি ব্যবহার প্রতিনিয়ত প্রতারণার হার বাড়ছে দিনের পর দিন। এতে নতুন করে যোগ হয়েছে অ্যাপের মাধ্যমে প্রতারণা।

অামরা বাঙালীরা অতি সহজ-সরল টাকার জন্য অামরা লোভে পড়তে অতি অাগ্রহী। কারণ অামরা একদিনে বড় লোক হওয়ার স্বপ্নের অাশায় পথ চলি! কিন্তু এটা সঠিক পথ নয় দেশে মোবাইল সেবা যেমনটা সহজ করেছেন, তেমনটাই প্রতারণার একটি বড় চক্র হয়েছে।

বিকাশে ও মোবাইলে টাকা বিজয়ের নানা ফাঁদের খবর শুনে দিনের পর দিন প্রতারিত হচ্ছে অনেক মানুষ। এসব ঘটনায় প্রতারিত হয়ে অনেক মানুষ হচ্ছে পথের ফঁকির!
অাবার অনেকে অপমান সহ্য করতে না পেরে করছেন সহজে অাত্মহত্যা।

বিকাশে কোনো টাকা এমনিতে পাওয়া যাইনা। হ্যা পাবেন অাপনাকে অাপনার পরিচিত কোন লোক টাকা নিশ্চিত পাঠিয়েছে। মনে রাখবেন অাপনি ১০০০০ হাজার টাকা দিলে অাপনাকে ১লক্ষা টাকা দিবে তা একদম সঠিক নয়। এটা একটা প্রতারণার অন্যতম ফাঁদ, অাপনি যদি এর সাথে বিষয়টি নিয়ে অালোচনা না করে তাঁকে প্রতারক বলে কথা-বার্তা বলেন দেখবেন সেই এমনিতে অাপনার সাথে অার কথা বলবেনা।

অাসুন একটু দেখেনি বিকাশে প্রতারিত হয়ে অাত্মহত্যা কেন করছেন….শারমিন

গত শনিবার (২৫-মে) সন্ধ্যায় নগরীর আকবরশাহ থানার বিশ্ব কলোনীতে বিকাশের প্রতারণার শিকার হয় শারমিন। শারমিন ১৪ হাজার টাকা পাঠালে ঔ বিকাশের ‘বিজয়ী’ লোক পরিচয় দেওয়া প্রতারক মানুষটি তাকে সাথে সাথে ৫০ হাজার ১ লাখ টাকা পাঠাবেন। কিন্তু তা না অাপনি টাকা পাঠানোর পর সেই বলবে অারোও কিছু টাকা পাঠান এটা এই খরচের জন্য লাগবে। দিলেন অাবারও তখন টাকা পেয়ে বলবে অারোও কিছূ পাঠান যখন অাপনি বুঝতে পারবেন তখন সেই মোবাইল বন্ধ করে দিয়ে অাপনার সাথে যোগাযোগ বন্ধ করে দিবে। তখন অাপনি বুঝতে পারবেন অাপনি বড় একটি প্রতারনায় পড়েছেন।

ঠিক এই ঘটনাটি এমনি শারমিন সাড়ে ১৪ হাজার টাকা পাঠানোর পর যখন বিজয়ী’ হওয়া টাকা কোনো খবর পাচ্ছেনা অন্যদিকে দোকানের মালিক টাকার জন্য নানা ভাষায় কথা বলছে তখনি অপমানে আত্মহত্যা করেছে শারমিন (১৬)। ব্যবসায়ী এখানে কোন সম্পর্ক নেই কারণ ১৪ হাজার টাকা বিক্রি করে সেই পাবে মাত্র ৮০টাকা বা ১০০ টাকা। কারণ সেই বলবেতো এটা তার ব্যবসা।

শারমিন অাত্মহত্যা করার পর পুলিশ বিষয়টি জানতে পারলে এ ঘটনায় স্থানীয় বিকাশ দোকানের (মায়ের দোয়া ইলেকট্রিক) এক কর্মচারীকে আটক করা হয়।

আকবরশাহ থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা মো. জসিম উদ্দিন বিষয়টি নিশ্চিত করে বলেন, শারমিন নিজ বাসায় গলায় ফাঁস দিয়ে আত্মহত্যা করেছে। বিকাশে টাকা পাঠানোর ঘটনায় প্রতারণার শিকার হয়ে সে অপমানে আত্মহত্যা করেছে বলে আমরা জানতে পেরেছি। তাই প্রাথমিকভাবে জিজ্ঞাসাবাদের জন্য স্থানীয় বিকাশ দোকানের এক কর্মচারীকে থানায় আনা হয়েছে।

স্থানীয়রা জানায়, শনিবার বিকালে বিশ্ব কলোনীর এল-ব্লকের বাসিন্দা কিশোরী শারমিন বিকাশ কোম্পানীর নামে প্রতারণার শিকার হয়ে স্থানীয় বিকাশ দোকান থেকে সাড়ে ১৪ হাজার টাকা পাঠিয়ে দেয়। কিন্তু দোকানদারের টাকা পরিশোধ না করায় দোকানী মেয়েটিকে ৩/৪ ঘন্টা দোকানে বসিয়ে রেখে সন্ধ্যায় ইফতারের আগে ছেড়ে দেয়। পরে বাসায় গিয়ে সে অপমানে গলায় ফাঁস দিয়ে আত্মহত্যা করেন।

রাতে বিশ্বকলোনীতে গিয়ে মেয়েটির স্বজন ও স্থানীয়দের সাথে কথা বলে জানা যায়, বেলা ১২টার দিকে শারমিন (১৬) এর ফোনে কল আসে। তাকে মোটা অংকের পুরস্কার জিতার লোভ দেখিয়ে নিজের একাউন্টে সাড়ে ১৪ হাজার টাকা ঢুকাতে বলে প্রতারক চক্র। তার আগেই শারমিন থেকে কৌশলে তার আইডি পাসওয়ার্ড নিয়ে নেয়।

শারমিন স্থানীয় মায়ের দোয়া ইলেকট্রিক নামে পরিচিত টেলিফোনের দোকানে গিয়ে তার একাউন্টে সাড়ে ১৪ হাজার টাকা বিকাশ করার পরপরই প্রতারক চক্র তা অন্য একাউন্টে ট্রান্সপার করে ফেলে। এতে প্রতারণার শিকার হয়েছে বুঝতে পারে শারমিন। ফলে শারমিন দোকানদারকে টাকা দিতে না পারলে তারা শারমিনকে দোকানে আটকে রাখে।

স্থানীয় ব্যবসায়ী আবছার জানান, বিকালে বিকাশের দোকানদার শারমিনে বাবাকে ফোন দিয়ে ঘটনা জানালে তিনি দুরে আছেন এবং রাতে এসে টাকা দেবেন জানানোর পর বিকালে শারমিনকে ছেড়ে দেয় দোকানদার।

স্থানীয় প্রতিবেশীদের ধারণা এ ঘটনায় পিতার বকুনী এবং দোকানে আটকে রাখায় অপমান সহ্য করতে না পেরে কিশোরী শারমিন নিজ বাসায় দরজা বন্ধ করে আত্মহত্যা করেন।

সন্ধ্যা সাড়ে ৬টায় আত্মহত্যার ঘটনা জানাজানি হলেও ঘটনাস্থল থেকে কয়েকশ গজ দুরে অবস্থিত আকবর শাহ থানা পুলিশ রাত ৯টার দিকে ঘরের লোহার দরজা কেটে শারমিনের লাশ উদ্ধার করে।

খোঁজ নিয়ে জানা যায়, গত বছরের মে মাসে অ্যাপের মাধ্যমে লেনদেন সুবিধা চালু করে বিকাশ। এরপর থেকে নতুন করে প্রতারণার শিকার হচ্ছেন ব্যবহারকারীরা।

শুধু এ ঘটনায় নয়, বিকাশ অ্যাপকে কেন্দ্র করে নিত্য-নতুন প্রতারণার পদ্ধতি খুঁজে বের করছে প্রতারকরা। তারা ব্যবহারকারীদের কাছে ফোন করে নতুন কোনো অফারের কথা বলছে। পরে অ্যাপ বা তথ্য হালনাগাদের কথা বলে ব্যবহারকারীদের কাছে তথ্য হাতিয়ে নেওয়া হচ্ছে টাকা।

ভুক্তভোগীদের অভিযোগ করে বলছেন, নিজেদের ভুলে ফাঁদে পা দিলেও বিকাশের কাছ থেকে এর প্রতিকার পাচ্ছেন না তারা। তাদের বড় অভিযোগটি হলো, বিকাশের সংশ্লিষ্ট কর্মীরা এই প্রতারণার সঙ্গে সরাসরি যুক্ত।

ভুক্তভোগী জানান, যে কোন একটি নম্বর থেকে বিকাশ কল সেন্টার পরিচয় দিয়ে কল করে। পরবর্তী সময়ে ওই নম্বর থেকে তার কাছে বিভিন্ন কোড ও অ্যাকাউন্ট সম্পর্কিত তথ্য চাওয়া হয়। বা বিভিন্ন অফার দেখিয়ে প্রতারিত করে। সাধারণ ব্যবহারিক এটার একটি দ্রুত সরকারের কাছে সমাধান চান। তা নাহলে শারমীন এর মত অারোও অনেক শারমীন প্রতারিত হয়ে অাত্মহত্যা করবে।

রাউজান নিউজ/অামির হামজা.বার্তা বিভাগ

LEAVE A REPLY

Please enter your comment!
Please enter your name here