বাংলাদেশে জি নেটওয়ার্কের সব চ্যানেল বন্ধ

161

রাউজান নিউজ ডেস্ক♦

জি নেটওয়ার্কের সব চ্যানেল বন্ধ সম্প্রচার বন্ধ হয়নি : তথ্যমন্ত্রী”

বাংলাদেশে বন্ধ করে দেওয়া হয়েছে ভারতের জি নেটওয়ার্কের সব টিভি চ্যানেল। ধীরে ধীরে অন্য চ্যানেলগুলোও বন্ধ করে দেওয়া হবে বলে দেশ রূপান্তরকে জানিয়েছেন কেব্ল অপারেটর অ্যাসোসিয়েশন অব বাংলাদেশের (কোয়াব) প্রতিষ্ঠাতা সভাপতি এস এম আনোয়ার পারভেজ। তবে সরকার কোনো চ্যানেলের সম্প্রচার বন্ধ করেনি বলে জানিয়েছেন তথ্যমন্ত্রী হাছান মাহমুদ।

আইন লঙ্ঘন করে বিদেশি টিভি চ্যানেলে বাংলাদেশি বিজ্ঞাপন কেন প্রচার হচ্ছে, তা জানতে চেয়ে দুটি পরিবেশক প্রতিষ্ঠানকে নোটিস দেওয়ার পর থেকে ওই চ্যানেলগুলো বাংলাদেশে বন্ধ রয়েছে। কেবল টেলিভিশন নেটওয়ার্ক পরিচালনা আইনের ১৯ (১৩) ধারায় বলা হয়েছে, কেবল টেলিভিশন নেটওয়ার্কের মাধ্যমে বিদেশি কোনো চ্যানেলের মাধ্যমে বিজ্ঞাপন সম্প্রচার বা সঞ্চালন করা যাবে না। কেবল টেলিভিশন নেটওয়ার্ক পরিচালনা আইন, ২০০৬-এর উপধারা-১৯ (১৩) এর বিধান লঙ্ঘন করে বাংলাদেশে ডাউনলিংক করা বিদেশি

সব চ্যানেল বন্ধ টিভি চ্যানেলের মাধ্যমে বিজ্ঞাপন প্রচার করায় পরিবেশক (ডিস্ট্রিবিউটর) প্রতিষ্ঠান নেশনওয়াইড মিডিয়া লিমিটেড এবং জাদু ভিশন লিমিটেডকে গত সোমবার কারণ দর্শানোর নোটিস দেয় তথ্য মন্ত্রণালয়। সাত দিনের মধ্যে ওই দুটি প্রতিষ্ঠানকে কারণ দর্শাতে বলা হয়েছিল। পূর্ব ঘোষণা অনুযায়ী এ বিষয়ে কয়েকবার সতর্কবার্তা জারির পর তথ্য মন্ত্রণালয়ের টিভি-২ শাখা থেকে এ নোটিস জারি করা হয়।

বাংলাদেশে ডাউনলিংক করা বিদেশি টিভি চ্যানেলের মাধ্যমে বিজ্ঞাপন প্রচারের কারণে দেশীয় টিভি চ্যানেলগুলো লোকসানে পড়ছে বলে দাবি জানিয়ে আসছিলেন দেশের টিভি চ্যানেলের মালিকরা। এরই পরিপ্রেক্ষিতে বিদেশি চ্যানেল বন্ধের কার্যক্রম শুরু হয়।

তবে তথ্য মন্ত্রণালয় সূত্রে জানা যায়, বিদেশি চ্যানেল বন্ধের নির্দেশ তারা দেননি। মূলত আইন লঙ্ঘন করে বিদেশি টিভি চ্যানেলে বাংলাদেশি বিজ্ঞাপন কেন প্রচার হচ্ছে, তা জানতে চেয়ে দুটি পরিবেশক প্রতিষ্ঠানকে নোটিস দেন তারা। সাত দিনের মধ্যে কারণ দর্শাতে বলা হয়েছিল। এরপর কেব্ল অপারেটররা ওই চ্যানেলগুলো বাংলাদেশে বন্ধ করে দেয়।

গতকাল মঙ্গলবার সচিবালয়ে সাংবাদিকদের তথ্যমন্ত্রী বলেন, ‘সরকার কোনো চ্যানেলের সম্প্রচার বন্ধ করেনি। আমরা কেবল প্রচলিত আইন প্রয়োগ করেছি। আমরা নোটিস দিয়েছি বিজ্ঞাপন ছাড়া যেন দেখানো হয়। নোটিসের জবাব পাওয়ার পরিপ্রেক্ষিতে আমাদের সিদ্ধান্ত হবে।’

তিনি আরও বলেন, ‘বাংলাদেশে বিদেশি কোনো চ্যানেলে কোনো ধরনের বিজ্ঞাপন প্রদর্শন করা যায় না। শুধু দেশীয় বিজ্ঞাপন নয়, কোনো ধরনের বিজ্ঞাপন দেখানো যায় না, এটি হচ্ছে বাংলাদেশের আইন। একই ধরনের আইন ভারত, যুক্তরাজ্য, ইউরোপেও আছে। বাংলাদেশে এ আইনটি মানা হচ্ছিল না এবং এ আইনটি প্রয়োগ করা হয়নি। এ কারণে যেটি হয়েছে, বাংলাদেশের টিভিগুলো যে বিজ্ঞাপন পেত তার বড় অংশ চলে গেছে ভারতে।’

তথ্যমন্ত্রী বলেন, ইউনিলিভার পাঁচ বছর আগে বিজ্ঞাপন খাতে মাসে ১৫ কোটি টাকা খরচ করত। পাঁচ বছরে এটা ২০ কোটি হওয়ার কথা ছিল। কিন্তু তা না হয়ে ৫ কোটিতে নেমে এসেছে। বাকি বিজ্ঞাপন ভারতীয় চ্যানেলের মাধ্যমে বাংলাদেশে প্রদর্শন করা হচ্ছে, যেটা আইন-বহির্ভূত। এ রকম অনেকগুলো কোম্পানির বছরে ৫০০ থেকে এক হাজার কোটি টাকার বিজ্ঞাপন অন্য দেশে চলে গেছে।

বাংলাদেশের শিল্পকে সুরক্ষা দিতেই আইন প্রয়োগ করা হচ্ছে মন্তব্য করে মন্ত্রী বলেন, ‘উদ্যোগ গ্রহণ করেছি এবং এ আইন প্রয়োগ করার আগে দুই মাস ধরে প্রচার করেছি। তিন দফা নোটিস দিয়েছি। ১ এপ্রিলও যখন দেখতে পেলাম বিদেশি চ্যানেলে বাংলাদেশের বিজ্ঞাপন প্রদর্শন করা হচ্ছে, তখন আমরা আইন মোতাবেক ব্যাবস্থা নিয়েছি।

রাউজান নিউজ/অামির হামজা, বার্তা বিভাগ

LEAVE A REPLY

Please enter your comment!
Please enter your name here