নোয়াজিশপুরে সর্তার ভাঙ্গন : জনদুর্ভোগের স্থানে স্বস্তির বাঁধ

65
raozan news

নোয়াজিশপুরে সর্তার ভাঙ্গন : জনদুর্ভোগের স্থানে স্বস্তির বাঁধ

মীর আসলাম (রাউজান নিউজ) :

বর্ষা এলেই রাউজানের সর্তা খালের ভাঙ্গন আতংকে থাকা মানুষের বুকে কাঁপন ধরে। এই খালটি পার্বŸত্য চট্টগ্রামের দুর্গম পাহাড়ী অঞ্চল থেকে সৃষ্ট হয়ে প্রবাহিত হয়েছে রাউজানের হলদিয়া, নোয়াজিশপুর, গহিরা, ডাবুয়া ইউনিয়নের বুক চিঁড়ে। একস্রোতা সর্তা খাল রাউজানের উপর দিয়ে গিয়ে মিশেছে হালদা নদীর সাথে।

স্থানীয় জনসাধারণ জানিয়েছে সারা বছর খালটি কৃষিজীবিদের জন্য আর্শিবাদ। তবে এটি অভিশাপ হয়ে দেখা দেয় বর্ষার মৌসুমে। বর্ষার মৌসুমী বায়ুর প্রভাবে সৃষ্ট বৃষ্টিতে এই খালে নেমে আসে পাহাড়ী পানি। তীব্র স্রোতে খালের পাড় ভেঙ্গে স্রোতের পানি পুরো রাউজানে বন্যা পরিস্থিতির সৃষ্টি করে। তলিয়ে যায় মানুষের বাড়িঘর। ভেসে নিয়ে যায় ফসল। ধসে দিয়ে যায় রাস্তাঘাট। সৃষ্ট পরিস্থিতিতে বছর জুড়ে দুর্ভোগ পোহাতে হয় রাউজানের মানুষকে।

স্থানীয় লোকজনের সাথে কথা বলে জানা যায়, খালটি প্রবাহিত আছে রাউজানের হলদিয়া, ডাবুয়া, চিকদাইর, নোয়াজিশপুর ও গহিরা ইউনিয়নের উপর দিয়ে। আগেকার দিনে খালের হাঁটু পানিতে চলাচল করতো এপার ওপার মানুষ। যুগের পরিবর্তনের ফলে আধুনিক এই যুগে খালের উপর প্রতিষ্ঠিত হয়েছে বেশ কয়েকটি পাকা ব্রিজ। এখন পানি মারিয়ে পারাপার করতে হয় না এপার ওপারের মানুষকে। তবে একাল সেকাল সকল যুগে বর্ষা এলে সর্তা খালের তীরবর্তী মানুষের দুর্ভোগ বাড়ে। ভাঙ্গন আতংক ও ফসল হারানো নিয়ে সকলের বুকে কাঁপন ধরে।

খাল পাড়ের ইউনিয়নের মধ্যে নোয়াজিশপুর ইউনিয়নের চেয়ারম্যান লায়ন এম সরোয়াদ্দি সিকদার বলেছেন পাহাড়ী পানির স্রোতে খালের পাড়ের মানুষের বাড়িঘর, জমি ভেঙ্গে যাওয়ার ধারাবাহিকতা সকল যুগে বজায় রয়েছে। এমন বাস্তবতায় খালটির গতিপথ পরিবর্তন হয়ে বহু দুরে এসে এখন অবস্থান করছে। খালের পূর্বকার অবস্থানে জেগে উঠা বড় বড় চড়ে এখন উৎপাত অবৈধ দখলদারদের।

তিনি জানান নোয়াজিশপুর ইউনিয়নের বাসিন্দাদের অনেক বাড়ি ঘর, ফসলী জমি এই খালে গ্রাস করেছে। ভাঙ্গন কবলিত হয়ে অনেক পরিবার যুগে যুগে পরিণত হয়েছে যাযাবর। তার কাছে জানা যায় সর্তার ভাঙ্গন কবলিত এলাকার মানুষকে সুরক্ষায় গত প্রায় দেড় দশক ধরে কাজ করছেন এলাকার সাংসদ এবিএম ফজলে করিম চৌধুরী। তিনি পানি উন্নয়ন বোর্ডের প্রকল্পে খালের বিশেষ বিশেষ পয়ন্টে প্রতিরক্ষা বাঁধ নির্মাণ করে ভাঙ্গন করেছেন। তার প্রচেষ্টায় আরো কিছু কিছু এলাকায় ভাঙ্গন প্রতিরোধ প্রকল্প অনুমোদন প্রক্রিয়ায় আছে। কথা প্রসঙ্গে চেয়ারম্যান সরোয়াদ্দি বলেন সম্প্রতি তার ইউনিয়নের মিলন মাস্টারের ঘাটায় খালের একটি বড় ভাঙ্গন তিনি এলাকাবাসীকে নিয়ে স্বেচ্ছাশ্রমে মাটি কেটে নির্মাণ করেছেন। এই ভাঙ্গনটি সৃষ্টি হয়েছিল বিগত বর্ষায়। এক সপ্তাহ কাল ধরে এখানে মাটি কেটেছে শতাধিক স্বেচ্ছাসেবী। বর্তমানে এই ভাঙ্গনটি পূননির্মাণ করার ফলে রাউজানসহ পার্শ্ববর্তী ফটিকছড়ির বেশ কয়েকটি গ্রামের মানুষের ফসলাদি রক্ষা পাবে। তার অভিমত জেগে উঠা চরের মধ্যখান দিয়ে খালের প্রবাহ ফিরে দেয়া হলে নোয়াজিশপুরের মত অনেক এলাকার মানুষ উপকৃত হবে।

LEAVE A REPLY

Please enter your comment!
Please enter your name here