নুসরাতের জানাজায় মানুষের ঢল

162

রাউজান নিউজ ডেস্ক♦ নুসরাতের জানাজায় মানুষের ঢল। কয়েক হাজার মানুষ অশ্রুসিক্ত নয়নে আর প্রতিবাদী কণ্ঠে বিদায় দিয়েছে ফেনীর সোনাগাজী ইসলামিয়া সিনিয়র ফাজিল মাদ্রাসা কেন্দ্রে আগুনে পুড়ে নিহত আলিম পরীক্ষার্থী নুসরাত জাহান রাফিকে।

বৃহস্পতিবার সন্ধ্যা ৬টায় সোনাগাজী সাবের পাইলট সরকারি উচ্চ বিদ্যালয় মাঠে জানাজা শেষে পারিবারিক কবরস্থানে লাশ দাফন করা হয়েছে। জানাজায় ইমামতি করেন নুসরাতের বাবা মাওলানা একেএম মুসা।

হাজারো মানুষ নুসরাতকে বিদায় জানাতে সমবেত হয় তাদের গ্রামে। নারী নির্যাতনের বিরুদ্ধে তাদের এ জমায়েত হয়ে উঠল এক শক্তি।

এর আগে সকাল থেকে আত্মীয়-স্বজনসহ জেলার বিভিন্ন স্থান থেকে দলে দলে নারী-পুরুষ তাদের বাড়িতে ভিড় জমায়। বিকেল ৫টায় সোনাগাজী পৌরসভার উত্তর চর চান্দিয়া গ্রামের বাড়িতে নুসরাতের লাশবাহী ফ্রিজারভ্যান পৌঁছালে হৃদয়বিদারক দৃশ্যের অবতারণা হয়।

নুসরাতের বাবা একেএম মুসা, মা শিরিনা আক্তার, বড় ভাই মাহমুদুল হাসান নোমান, ছোট ভাই রাশেদুল হাসান রায়হান বারবার মূর্ছা যান। নুসরাতের মরদেহ একনজর দেখতে সকাল থেকে অপেক্ষা করা মানুষের চোখে-মুখে ছিল কান্নার ছাপ।

আইনশৃঙ্খলা বাহিনীকে কড়া নিরাপত্তার মধ্যেও নুসরাতের মরদেহ বাড়ি পৌঁছালে মানুষের উপচে পড়া ভিড় সামলাতে হিমশিম খেতে হয়েছে তাদের।

পরে সোনাগাজী ছাবের পাইলট সরকারি উচ্চ বিদ্যালয় মাঠে নিয়ে আসা হয়। জানাজার আগে সোনাগাজী উপজেলা আওয়ামী লীগের সাধারণ সম্পাদক ও পৌর মেয়র এড. রফিকুল ইসলাম খোকন বক্তব্য রাখেন।

আরো বক্তব্য রাখেন ফেনী ইউনিভার্সিটি ট্রাস্টি বোর্ডের চেয়ারম্যান আলাউদ্দিন আহমেদ চৌধুরী নাসিম, জেলা প্রশাসক মো. ওয়াহিদুজজামান, পুলিশ সুপার এস.এম জাহাঙ্গীর আলম সরকার, অতিরিক্ত জেলা প্রশাসক (রাজস্ব) পিকেএম এনামুল করিম, জেলা আওয়ামী লীগ সভাপতি আবদুর রহমান বিকম, সোনাগাজী উপজেলার চেয়ারম্যান জেড. এম কামরুল আনাম, নবনির্বাচিত চেয়ারম্যান জহির উদ্দিন মাহমুদ লিপটন, সোনাগাজী উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা সোহেল পারভেজ, নিহত নুসরাতের বাবা একেএম মুসা ও বড়ভাই মাহমুদুল হাসান নোমান।

এর আগে বুধবার রাত সাড়ে ৯টায় ঢাকা মেডিকেলের বার্ন ইউনিটে চিকিৎসাধীন অবস্থায় মারা যায় নুসরাত জাহান রাফি। পরে বৃহস্পতিবার সকাল সাড়ে ১১টায় ময়নাতদন্ত শেষে চিকিৎসকরা স্বজনদের কাছে মরদেহ হস্তান্তর করেন।

শনিবার সকালে আলিম পরীক্ষা দিতে সোনাগাজী ইসলামিয়া সিনিয়র ফাজিল মাদ্রাসায় মুখোশপরা চার-পাঁচজন তাকে অধ্যক্ষ সিরাজ উদ দৌলার বিরুদ্ধে মামলা ও অভিযোগ তুলে নিতে চাপ দেয়। সে অস্বীকৃতি জানালে তারা গায়ে আগুন দিয়ে পালিয়ে যায় তারা।

এর আগে ২৭ এপ্রিল ওই ছাত্রীকে নিজ কক্ষে নিয়ে শ্লীলতাহানির অভিযোগে মাদ্রাসার অধ্যক্ষ সিরাজ উদ দৌলাকে আটক করে পুলিশ। সে ঘটনার পর থেকে তিনি কারাগারে রয়েছেন। এ ঘটনায় ওই ছাত্রীর মা শিরিন আক্তার বাদী হয়ে সোনাগাজী মডেল থানায় মামলা দায়ের করেন।

রাউজান নিউজ/অামির হামজা, বার্তা বিভাগ

LEAVE A REPLY

Please enter your comment!
Please enter your name here