নিউজিল্যান্ডে নিহত ড. সামাদের বাড়িতে শোকের মাতম

133

রাউজান নিউজ ডেস্ক ♦

নিউজিল্যান্ডে নিহত ড. সামাদের বাড়িতে শোকের মাতম”

নিউজিল্যান্ডের ক্রাইস্টচার্চে আল নুর মসজিদে সন্ত্রাসী হামলায় নিহত দুই বাংলাদেশির একজন হচ্ছেন কুড়িগ্রামের নাগেশ্বরী উপজেলার কৃষি অর্থনীতিবিদ ড. সামাদ আজাদ। তিনি নাগেশ্বরীর মধুর হাইল্ল্যা গ্রামের জামাল উদ্দিনের ছেলে।

মৃত্যুর খবর শোনার পর নিহতের বাড়ি মধুর হাইল্ল্যা গ্রামে বিরাজ করছে শোকের ছায়া। এ গ্রামে গিয়ে দেখা গেছে, পরিবারের সদস্যদের মাঝে গভীর শোক। তারা হতবাক হয়েছেন। ঘরের ভিতর ড. সামাদ বড়ভাই মতিয়ার রহমান অসুস্থ্য হয়ে পড়েছেন। তিনি কাউকে কিছুই বলতে পারছেন না।

ভাতিজা আব্দুল মান্নান বিলাপ করছেন, আমার আর নিউজিল্যান্ডে যাওয়া হলো না। আমি হাফেজ হলে চাচা আমাকে নিউজিল্যান্ডে নিয়ে যেতে চেয়েছিল। এখন কে আমাকে নিয়ে যাবে? এই প্রশ্ন সে বার বার করছেন। সে তার চাচার এই মৃত্যু মেনে পারছেন না।

অপর ভাতিজা মামুন বলেন, চাচা আমার আমার চলতি বছরের এপ্রিল মাসে বাড়িতে আসতে চেয়েছিলেন। এখন আসবেন লাশ হয়ে। এটা মেনে নেয়া যাচ্ছেনা। সে তার চাচার হত্যাকারীর বিচার দাবি করেন।

ড. সামাদের বোন জামাই আহম্মদ আলী বরেন, আমার সমন্দি সামাদ ভাই অত্যন্ত ভালো মানুষ ছিলেন। তার এই মৃত্যু আমরা কোনোভাবেই মেনে নিতে পারছিনা। যারা আমার এই ভাইকে নিমর্মভাবে হত্যা করেছে তার আমি ফাঁসি চাই। ড. সামাদের লাশ দেশে আনার জন্য তার বড় ছেলে ঢাকায় কর্মরত সপটওয়্যার ইঞ্জিনিয়ার তোহা মোহাম্মদ চেষ্টা চালাচ্ছেন। তার কাছ থেকে তারা জানতে পেরেছেন ড. সামাদের স্ত্রী কিশোয়ারা বেগম নিরাপদে আছেন।

নিহত ড. সামাদ আজাদের ছোট ভাই শামছুজ্জামান বলেন, ড. সামাদ আজাদ আমাদের ১০ ভাই বোনের মধ্যে সবার বড়। সন্ত্রাসী হামলায় তার নিহত হওয়ার খবর শোনার পর আমরা হতভম্ব।

ড. সামাদ আজাদের মৃত্যুর নাগেশ্বরীতে বিক্ষোভ মিছিল বের করেছে ইসলামী আন্দোলন বাংলাদেশ শুক্রবার বিকেলে নাগেশ্বরী উপজেলা শহরে এ বিক্ষোভ মিছিল বের করেছে।

নাগেশ্বরী উপজেলার ইউএনও মো. আল ইমরান বলেন, নিউজিল্যান্ডে মসজিদে সন্ত্রাসী হামলায় ড. সামাদ আজাদের মৃত্যুর বিষয়টি তার পরিবার সহ বিভিন্ন মাধ্যমে যোগাযোগ করে নিশ্চিত হয়েছি।

ড. আব্দুস সামাদ নাগেশ্বরী ডিএম উচ্চ বিদ্যালয় থেকে এসএসসি পাশ করেন। এরপর এইচএসসি শেষে ময়মনসিংহ কৃষি বিশ্ববিদ্যালয়ে লেখাপড়া শেষ করে ওই বিশ্ব বিদ্যালয়ে কৃষি তথ্য বিভাগের অধ্যাপক ছিলেন।

কৃষি বিশ্ববিদ্যালয় থেকে আগাম অবসর গ্রহণ করার পর তিনি ৫ বছর আগে স্ব-পরিবারে নিউজিল্যান্ড চলে যান। সেখানে তিনি লিংকন বিশ্ববিদ্যালয়ে পিএইচডি ডিগ্রী গ্রহণ করেন। স্ত্রী কিশোয়ারাসহ ২ ছেলে তানভীর ও তারেক সঙ্গেই থাকতেন। বড় ছেলে ঢাকায় থাকেন। বড় ছেলে সপটওয়্যার ইঞ্জিনিয়ার তোহা মোহাম্মদ ঢাকায় একটি কোম্পানিতে কর্মরত।

LEAVE A REPLY

Please enter your comment!
Please enter your name here