ধর্ষক, খুনি ও তাদের সহযোগীদের কঠোর শাস্তি হোক

118
কাজী আবু মোহাম্মদ খালেদ নিজাম♦ ধর্ষক, খুনি ও তাদের সহযোগীদের কঠোর শাস্তি হোক। সারাদেশে সাম্প্রতিক সময়ে ধর্ষণ ও খুনের মতো ঘটনাগুলো বেড়ে চলেছে।বিশেষ করে ফেনির মাদ্রাসা ছাত্রী নুসরাতের হত্যাকান্ড নিয়ে দেশব্যাপী তোলপাড় সৃষ্টি হয়েছে।এ ঘটনার সাথে জড়িত সন্দেহে মাদ্রাসা অধ্যক্ষ সহ কয়েকজেনকে গ্রেফতার করা হয়েছে।দাবি উঠেছে কঠোর শাস্তির।তাছাড়া পত্রিকার পাতা খুললেই এ সম্পর্কিত আরো অনেক খবর খবর চোখে পড়ে।এ নিয়ে সাধারণ মানুষ উদ্বিগ্ন।অজানা আশংকায় গুমরে মরছে সচেতন সবাই।মানুষের মাঝে বিদ্যমান মানবিক গুণাবলী লোপ পেয়ে হিংস্রতা যেন মাথাচাড়া দিয়ে উঠছে।অপরাধীরা সর্বত্র বেপরোয়া।হেন অপরাধ নাই যা তারা করছে না।কখন কে এসব অপ্রীতিকর ঘটনার মুখোমুখি হয় বলা মুশকিল।অভিভাবকসহ সমাজ ও দেশের সাধারণ মানুষকে তটস্ত থাকতে হয় সর্বক্ষণ।এ নিয়ে নানা মহল থেকে প্রতিক্রিয়া হলেও পরিস্থিতির তেমন উন্নতি দেখা যাচ্ছে না। বিচার প্রক্রিয়ার দীর্ঘসূত্রিতার কারণে ধর্ষণ ও খুনের সাথে জড়িত অপরাধীরা প্রশাসনকে বৃদ্ধাংগুল দেখিয়ে প্রকাশ্যে ঘুরে বেড়াচ্ছে।ধরা পড়লেও সাজা কখন হয় তা নিয়ে আছে নানা শংকা।তাছাড়া রাজনৈতিক ও প্রভাবশালীদের আস্কারা পেয়ে
অপরাধীরা দ্বিগুণ উৎসাহে অপরাধ করার দুঃসাহস দেখায়।বাবার হাতে মেয়ে, স্ত্রীর হাতে স্বামী কিংবা স্বামীর হাতে স্ত্রী খুনের ঘটনাগুলো যখন ফেসবুক ও পত্রিকার পাতায় দেখি তখন আতংকিত হই।যেন তা অন্ধকার যুগের সময়ের ঘটনাকেও হার মানায়।মানুষের মাঝে এ ধরনের হিংস্র মনোভাব কীভাবে জাগ্রত হয় যে নিজের আপনজনকেও হত্যা করতে পারে? ধর্ষণ করতে পারে? এসব ঘটনায় গোটা জাতি স্তম্ভিত, শংকিত। সমাজে মূল্যবোধের বড়ই অভাব।মানুষের মাঝে নৈতিক চরিত্রের সংকট
চলছে। সভ্য যুগে এমন নৃশংসতা কোনভাবেই মানানসই নয়। যে সব কারণে ধর্ষণ ও খুনের
ঘটনা ঘটছে তার কারণ খুঁজে বের করতে হবে।অপরাধী যেমন অপরাধ করে পার পাওয়ার
সুযোগ পাবে না তেমনি তার পাশাপাশি মানুষের নৈতিক চরিত্র গঠনের জন্যও প্রয়োজনীয় পদক্ষেপ নিতে হবে।পরিবার
থেকেই মূল্যবোধের শিক্ষা শুরু করতে হবে।নৈতিক মনোবল বাড়ানোর পাশাপাশি অপরাধের কুফল সম্পর্কে সচেতনতা বৃদ্ধি
করতে হবে।সমাজ থেকে নিন্দনীয় ও গর্হিত এসব কাজ দূরীভূত করতে প্রয়োজনীয়
পদক্ষেপ নিতে হবে।জনসচেতনতা বৃদ্ধির
লক্ষে কর্মসূচি প্রণয়ন করতে হবে।কীভাবে এসব অপরাধ থেকে মুক্ত থাকা যায় তার
কৌশল নির্ধারণ করতে হবে। নৈতিক চরিত্রগঠন, মূল্যবোধের প্রচার, ধর্মীয় অনুশাসন অনুসরণ এবং সচেতনতা তৈরীর পাশাপাশি ধর্ষক ও খুনীদের সর্বোচ্চ শাস্তি নিশ্চিত করতে হবে। বিদ্যমান আইন ও বিধি বিধানকে সংস্কার এবং যুগোপযোগি করে ধর্ষণ ও খুনের জন্য সর্বোচ্চ শাস্তি ‘মৃত্যুদন্ড’ দেয়ার বিধান প্রণয়ন করে দ্রুত শাস্তির ব্যবস্থা করতে হবে। ন্যায় বিচার ও বিচার প্রক্রিয়া তরান্বিত করতে পারলে ধর্ষক, খুনী,সন্ত্রাসী যেই হোক অপরাধ করার সাহস
পাবে না। রাজনৈতিক দল এবং প্রভাবশালীদেরকে অপরাধে যুক্ত ব্যক্তিদের আশ্রয়, প্রশ্রয় দেয়া বন্ধ করতে হবে। অপরাধীদের শেকড় উপড়ে ফেলতে পারলে সমাজে শান্তি ফিরে আসবে।নিজের আপনজনের কাছেও যদি মানুষ নিরাপদ না থাকে তাহলে তারা যাবে কোথায়? মানুষের জন্য একটি নিরাপদ পরিবেশ সৃষ্টিতে সরকারকে পদক্ষেপ নিতে হবে। সমাজে মানুষের বেঁচে থাকার প্রধানতম অবলম্বন তার নিরাপত্তা যার মাধ্যমে সে নিশ্চিন্তে বসবাস করতে পারবে। এখনই থামুক ধর্ষণ ও খুনের ঘটনাগুলো।অপরাধীর কঠোর সাজা হোক। আমরা একটি সুখী, সুন্দর ও সমৃদ্ধ বাংলাদেশ চাই। এজন্য অন্যসব অপরাধের পাশাপাশি ধর্ষণ এবং খুনের ঘটনার বিলুপ্তি ঘটাতে হবে। মানুষের শান্তি ও নিরাপত্তা নিশ্চিত করতে হবে।শাস্তি হোক ধর্ষক,খুনী ও তাদের সহযোগীর।
★লেখক : শিক্ষক ও প্রাবন্ধিক
রাউজান নিউজ/অামির হামজা, বার্তা বিভাগ

LEAVE A REPLY

Please enter your comment!
Please enter your name here