রাউজান নিউজ

ডিভি-২০ বনাম কোভিড-১৯

ডিভি-২০ বনাম কোভিড-১৯

মোরশেদ তালুকদার, সংবাদকর্মী :

৬ মে ২১২০। ঢাকা। পৃথিবীর ২২৬ টি রাষ্ট্রের প্রতিনিধি জরুরী বৈঠকে বসেছেন। এ মুহূর্তে বিশ্বের সবচেয়ে ক্ষমতাধর রাষ্ট্র চীন, ভারত ছাড়াও ইউরোপ-আমেরিকা মহাদেশের অনেকগুলো রাষ্ট্রের প্রধানরাও উপস্থিত আছেন এ বৈঠকে। আছেন বিশ্বের খ্যাতিমান বিজ্ঞানী এবং গবেষকগণও। আলোচনার বিষয়, ‘বাংলাদেশ এবং ডিভি-২০’।

ডিভি এর পূর্ণ রূপ ‘ডেথ ভাইরাস’। বছরের (২১২০) প্রথম সপ্তাহে (জানুয়ারি) আমেরিকায় অজানা এক রোগে ২৫ হাজার লোক মারা যায়। এ রোগের প্রাথমিক লক্ষণ ছিল, বমি। হঠাৎ করেই বমি করতে করতে মারা যেতে থাকে দেশটির বিভিন্ন শহরের বাসিন্দারা। জানুয়ারির তৃতীয় সপ্তাহে এসে বিশ্বের ১৯০টি দেশের চিত্রও হয় একই। সেসব দেশেও বমি করতে করতে লোকজন মারা যাচ্ছেন। ফেব্রুয়ারির দ্বিতীয় সপ্তাহে আমেরিকার একজন গবেষক দাবি করেন, বমি করে মারা গেলেও নিহতরা আসলে একধরনের ভাইরাসে আক্রান্ত। যে ভাইরাসে সংক্রমিত হওয়ার ২০ তম দিনে রোগী অবশ্য মারা যাবেন। তাই তিনি এর নাম দিয়েছেন ‘মৃত্যু ভাইরাস’ বা ‘ডেথ ভাইরাস’। ২১২০ সালের ২০-কে এর সঙ্গে জুড়ে দিয়ে সংক্ষেপে বলছেন, ‘ডিভি-২১২০’।

ইতোমধ্যে বিশ্ব মানচিত্রের ২২৫ দেশে ‘ডিভি-২০’ এর প্রকোপ দেখা যায়। মারা যায় পৃথিবীর ৩৭০ কোটি মানুষ। তবে ব্যতিক্রম পৃথিবীর একমাত্র রাষ্ট্র বাংলাদেশ, যে রাষ্ট্রের একজনও ভাইরাসটিতে আক্রান্ত হননি! এমনকি অন্য দেশে বসবাসরত একজন বাংলাদেশিও সংক্রমিত হননি। তাই বিভিন্ন দেশের প্রতিনিধিরা ছুটে এসেছেন ঢাকায়। তারা বাংলাদেশের কাছে জানতে চায়, ‘ডিভি-২০’ থেকে রক্ষা পাওয়ার গোপন রহস্য।

বৈঠকের সাত ঘন্টা অতিক্রম হয়ে গেছে। অতঃপর বাংলাদেশ সরকারের একজন প্রতিনিধি মটু মিত্র বক্তব্য শুরু করেন। মটু মিত্র বলছেন, ‘ডিভি-২০’ থেকে কিভাবে রক্ষা পেয়েছি, সেটা জানার জন্য আপনাদের ফিরে যেতে হবে একশ বছর আগে। আপনারা নিশ্চয়ই জানেন, ওই সময় ‘কোভিড-১৯’ বা করোনা ভাইরাসের প্রকোপ ছিল বিশ্বজুড়ে। লাখ লাখ মানুষ মারা যায় সেবার। তখন বিভিন্ন দেশ করোনা ভাইরাসের টিকা ও ওষুধ আবিষ্কারে নানা গবেষণা চালায়। তখন বিশ্বের স্বাস্থ্য বিশেষজ্ঞগণ একমত হয়েছিলেন, করোনা থেকে বাঁচতে সামজিক দূরত্ব নিশ্চিত করতেই হবে। তাই বিশ্বের উন্নত দেশগুলো সেদিকেই নজর দেয়। কিন্তু বিষয়টাকে আমরা অন্যভাবে দেখি। আমরা অন্যের কথায় কান দিই না। নিজেরাই ‘এক্সপেরিমেন্ট’ করে দেখি, সমাজিক দূরত্ব মানলে কী হয় এবং না মানলে কী হয়।

এতটুকু বলেই পানি খাওয়ার লক্ষ্যে বক্তব্য বন্ধ করলেন মটু মিত্র। মুহূর্তে উপস্থিত সবাই চিৎকার শুরু করে দিয়েছেন, ‘বক্তব্য বন্ধ করলেন কেন মশায়’?
কোনমতে একটু পানি খেয়ে আবারো বক্তব্য শুরু করলেন মটু। এবার তিনি বলছেন, ‘এক্সপেরিমেন্ট’ এর জন্য প্রথম ধাপে সামাজিক দূরত্ব কঠোরভাবে নিশ্চিত করা হয়। এজন্য অধিক লোকের সমাগম হয় এমন স্থানগুলোর উপর বিধিনিষেধ আরোপ করা হয়। তৈরি পোশাকসহ বিভিন্ন শিল্প-কারখানা বন্ধ ঘোষণা কর হয়। শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান, দোকান, মার্কেট, গণপরিবহন, অফিস-আদালত, ধর্মীয় উপসানালয় সবকিছুতেই নিয়ন্ত্রণ আরোপ করা হয়। সাথে চলে আক্রান্তের হার কেমন হচ্ছে সেই পর্যবেক্ষণ। অবশ্য বন্ধের মধ্যেও কিন্তু আক্রান্তের হার বাড়ছিল।

মিত্র বলছেন, করোনা ভাইরাসের দ্বিতীয় ধাপের এক্সপেরিমেন্ট করা হয় মে মাসে (২০২০)। এবার বিধিনিষেধ শিথিল করা হয়। অবশ্য শর্তও জুড়ে দেয়া হয়। যদিও জনগণের আচরণ এবং তাদের স্বভাব থেকে নীতিনির্ধারকরা আগে থেকেই জানতেন, এসব শর্ত খুব বেশি মানা হবে না। না মামলে অবশ্য এক্সপেরিমেন্টের রেজাল্ট দ্রুত আসবে। এসেছিলও।

এসময় চীনের প্রতিনিধি চু ওয়ান দৃষ্টি আকর্ষণ করলেন মটু মিত্রের। চু ওয়ান বললেন, বিভিন্ন নথিপত্র পর্যালোচনায় আমরা দেখেছি, আপনাদের স্বাস্থ্য বিভাগে মে মাস নিয়ে চিন্তিত ছিলেন। বিভিন্ন সতর্কবার্তাও ছিল। তারপরও সবকিছু শিথিল করা হয়েছে?

প্রতিত্তুরে মটু মিত্র বলেন, হ্যাঁ আপনার পয়েন্ট সঠিক। ২১ এপ্রিল বাংলাদেশের স্বাস্থ্য বিভাগ ‘করোনা ভাইরাস প্রতিরোধ ও প্রতিকারে গৃহিত কার্যক্রম পর্যালোচনা এবং পরবর্তী করণীয় বিষয়ক সভা’ করে। ওই সভার কার্যবিবরণী পরে প্রকাশিত হয়। সেখানে চার নম্বর অনুচ্ছেদে দুটো প্রক্ষেপণ ছিল। প্রথম প্রক্ষেপণ অনুযায়ী, ৩১ মে এর মধ্যে ৪৮ থেকে ৫০ হাজার এবং দ্বিতীয় প্রক্ষেপণ অনুযায়ী প্রায় এক লক্ষ লোক করোনা ভাইরাসে আক্রান্ত হতে পারেন। তবে সেই প্রক্ষেপণ সামনে রেখেই সবকিছু শিথিল করা হয়। ঝুঁকি না থাকলে সেটা এক্সপেরিমেন্ট হয় নাকি? অবশ্য সাধারণ মানুষ জানতো, অর্থনৈতিক চাপের কারণেই শিথিল করা হচ্ছিল সবকিছু।

এবার চু ওয়ানের পাল্টা প্রশ্ন, আপনারা সফল হয়েছিলেন? বিজয়ের হাসি দিয় মটু মিত্র বললেন, সে তো আপনারা দেখতেই পাচ্ছেন। সবকিছুতে শিথিল করার পর আক্রান্তের হার বাড়তে থাকে। এভাবে কিছুদিন যাওয়ার পর রোগ প্রতিরোধ ক্ষমতা বৃদ্ধি পায় জনগণের। করোনা ভাইরাসের সাথে লড়াই করে যারা বেঁচে যান তারা শারীরিকভাবে এত বেশি শক্তিধর হয়ে উঠেন, জীবিত থাকা অবস্থায় তাদের কোন অসুখই হয়নি। এখনকার বাংলাদেশের জনগণ তাদের বংশধর। আমাদের জনগণের শরীর বংশপরম্পরা রোগপ্রতিরোধক। তাই ‘ডিভি-২০’ আমাদের আক্রান্ত করেনি!

মটু মিত্রের বক্তব্য শুনে সবাই হতাশ। কারণ এ বক্তব্যে আশার কোন বাণী নেই। এমুহূর্তে কিভাবে ‘ডিভি-২০’ নিয়ন্ত্রণ করা যাবে তার উত্তরও ছিল না তার বক্তব্যে। সেটা লক্ষ্য করে মটু মিত্র বললেন, আজকে আপনারা হতাশ। অথচ একশ বছর আগে আমাদের জনগণ তার চেয়ে বেশি হতাশ ছিলেন। কারণ এক্সপেরিমেন্ট চলাকালে প্রতিদিন আক্রান্তের সংখ্যা বাড়ছিল। জানেন কত সংখ্যক আক্রান্ত হয়েছিল এবং কত লোক মারা যায়? প্রশ্ন করেই চুপ হয়ে যান তিনি। সাথে হলজুড়েও নেমে আসে পিনপতন নিরবতা।

কয়েক মিনিট অতিক্রম হওয়ার পর চোখ মুছলেন মটু মিত্র। হয়তো ২০২০ সালে যারা আক্রান্ত হয়েছিলেন এবং মারা যান তাদের কথা ভেবে কাঁদছেন তিনি। ঠিক এসময়ে নিরবতা ভাঙলেন আমেরিকার রবার্ট স্টুয়ার্ট। মটু মিত্রকে উদ্দেশ্য করে বললেন, এক্সপেরিমেন্ট চলাকালে আপনার দেশের কত জনগণ প্রাণ হারান এবং কতজন আক্রান্ত হয়েছিলেন সেই তথ্য কি জানাবেন? প্লিজ।

মটু মিত্র বললেন, যাদের ত্যাগের বিনিময়ে আজ আমরা ‘ডিভি-২০’ মুক্ত তাদের প্রতি শ্রদ্ধা। কিন্তু তাদের পরিচয় এবং সংখ্যা আমরা রাষ্ট্রীয় স্বার্থে গত একশ বছর গোপন রেখেছি। সরি, সেই তথ্য প্রকাশ করার অনুমতি নাই।

Add comment

Follow us

Don't be shy, get in touch. We love meeting interesting people and making new friends.

নামাজের সময়সূচী

    চট্রগ্রাম
    Wednesday, 25th November, 2020
    SalatTime
    Fajr5:01 AM
    Sunrise6:20 AM
    Zuhr11:45 AM
    Asr2:50 PM
    Magrib5:11 PM
    Isha6:30 PM

এ বি এম ফজলে করিম চৌধুরী এমপি এর উদ্যোগ সমগ্র রাউজানে ৪ লক্ষ ৫০ হাজার ফলজ চারা রোপন কর্মসূচী

ভয়াবহ আগুন থেকে রক্ষা পেল রাউজানে তাপ বিদ্যুৎ কেন্দ্রে

Most popular

Social Media