খুলুছিয়ত ও রুহানীয়তের অপরুপ সমন্বয় গাউছুল আজমের তরিক্বত

244

এম.অারফাত হোসাইন (ঢাকা থেকে)♦

খুলুছিয়ত ও রুহানীয়তের অপরুপ সমন্বয় গাউছুল আজমের তরিক্বত”

চট্রগ্রাম কাগতিয়া আলীয়া গাউছুল আজম দরবার শরীফের মহান মোর্শেদ, আওলাদে রাসূল (দঃ) হযরতুলহাজ্ব আল্লামা অধ্যক্ষ শায়খ ছৈয়্যদ মহান মোর্শেদে আজম মাদ্দাজিল্লুহুল আলী বলেছেন, ইসলামী জীবন বিধানের গভীর থেকে গভীরে গবেষণা করলে যে বিষয়টি সুষ্পষ্ট হয়ে ওঠে তা হলো এখলাসের সাথে এবাদত ও রিয়াজতে জীবনকে পরিচালিত করা। গাউছুল আজমের তরিক্বত হলো খুলুছিয়তের সর্বোচ্চ বিদ্যাপিঠ। যেখানে নিহিত হেদায়তময় শান্তি সুধার অমৃত আস্বাদ। যার পথ ধরে মানবাত্মায় সৃষ্টি হয় রুহানিয়তের ঐশী পথচলা।

শনিবার (২ মার্চ) রাজধানী ঢাকার গুলিস্থানের কাজী বশির মিলনায়তন সম্মুখস্থ ময়দানে ঐতিহাসিক এশায়াত সম্মেলনে উপস্থিত নবীপ্রেমীক মুসলমানের উদ্দেশ্যে প্রধান অতিথির বক্তব্যে এসব কথা বলেন।

তিনি আরো বলেন, পৃথিবীব্যাপী অশান্তি-অস্থিরতার মূলে রয়েছে স্রষ্টাকে ভুলে সৃষ্টিতে মত্ত হয়ে যাওয়া। গাউছুল আজম এই পথহারা-দিশেহারা মানবের আত্মায় নূরে মুহাম্মদীর বিচ্ছুরণে স্রষ্টার সাথে সৃষ্টির ব্যবধান দূর করে সৃষ্টি করেন রুহানিয়ত। এভাবে মানবের অশান্ত আত্মা হয় শান্ত, অস্থির হৃদয় হয় স্থির। গাউছিয়্যতের এই দর্শন সারা পৃথিবীতে পৌঁছে গেলে পৃথিবীটা হবে শান্তির আরাধ্য নিকেতন, সর্বত্র উড়বে দ্বীন ইসলামের বিজয় কেতন।

পবিত্র জশনে জুলুছে ঈদে মিলাদুন্নবী (দঃ) উদযাপন ও কাগতিয়া দরবারের প্রতিষ্ঠাতা খলিলুল্লাহ আওলাদে মোস্তফা খলিফায়ে রাসূল হযরত শায়খ ছৈয়্যদ গাউছুল আজম (রাঃ) স্মরণে চট্রগ্রাম কাগতিয়া আলীয়া গাউছুল আজম দরবার শরীফ তরিক্বতের এ সম্মেলনের আয়োজন করে বিশ্বব্যাপী অরাজনৈতিক তরিক্বতভিত্তিক আধ্যাত্মিক সংগঠন মুনিরীয়া যুব তবলীগ কমিটি বাংলাদেশ।

প্রধান অতিথি কাগতিয়া দরবারের প্রতিষ্ঠাতা গাউছুল আজম (রাঃ)’র বর্ণাঢ্য জীবন, কর্ম ও অবদানের কথা তুলে ধরে বলেন, এ মহামনীষী ইসলামের খেদমতে, সুন্নাতে মোস্তফার প্রচারে, ইসলামী শিক্ষা ও সংস্কৃতির প্রসারসহ সকল ক্ষেত্রেই রেখেছেন সমান অবদান। যিনি মুসলিম মিল্লাতের কল্যাণে কাগতিয়া আলীয়া গাউছুল আজম দরবার শরীফ তরিক্বতের প্রবর্তন করেন।

চট্টগ্রাম বিশ্ববিদ্যালয়ের সিনেট সদস্য ও মাইক্রো বায়োলজি বিভাগের প্রফেসর ড. মোহাম্মদ আবুল মনছুর এর সভাপতিত্বে এতে বিশেষ অতিথি ছিলেন ইসলামি আরবি বিশ্ববিদ্যালয়ের উপাচার্য প্রফেসর ড. মোহাম্মদ আহসান উল্লাহ, বাংলাদেশ জমিয়াতুল মোদার্রেছীন এর মহাসচিব ও ইসলামি আরবি বিশ্ববিদ্যালয় সিন্ডিকেট সদস্য হযরতুলহাজ্ব অধ্যক্ষ আল্লামা শাব্বির আহমদ মোমতাজী, এফবিসিসিআই এর পরিচালক খন্দকার রুহুল আমিন সিআইপি, মুনিরীয়া যুব তবলীগ কমিটি বাংলাদেশ কানাডা শাখার সচিব আলহাজ্ব মীর মোহাম্মদ কায়কোবাদ, বাংলাদেশ সুপ্রিম কোর্ট এর আইনজীবী ব্যারিস্টার এস. এম কফিল উদ্দিন, দি রাজধানী গ্রুপের চেয়ারম্যান এস. এম. শাহজাহান।

সভাপতির বক্তব্যে প্রফেসর ড. আবুল মনসুর বলেন, চতুর্দিকে যখন বিভ্রান্তির বেড়াজালে মানুষ বিভ্রান্ত ঠিক এরকম সময়ে নূহ নবীর কিশতি হয়ে দিশেহারা মানুষকে সঠিক পথের সন্ধান দিয়ে যাচ্ছেন হযরত গাউছুল আজম। বিশ্বের বুকে প্রতিষ্ঠিত করেছেন আল্লাহ পর্যন্ত পৌঁছার জন্য হেদায়তের অমূল্য নিয়ামত নবীপ্রেমে মোড়ানো রাসুলনোমা তরিক্বত।

বিশেষ অতিথির বক্তব্যে ড. মোহাম্মদ আহসান উল্লাহ বলেন, কাগতিয়া দরবার যেন বেহেশতি ফুলের সুঘ্রানে সুশোভিত তাই নবীপ্রেমিকদের আনাগোনায় এ দরবার মুখরিত। এ দরবারের ঐতিহ্য আদর্শকে যথাযথভাবে ধারণ করতে পারলে আলোকিত মানুষে পরিণত হয়। তাই বিশ্বকে আলোকিত করার জন্য গাউছুল আজমের দর্শনই সত্যিকারের দর্শন।

অধ্যক্ষ শাব্বীর আহমেদ মোমতাজী বলেন, নৈতিকতার চরম অবক্ষয়ের যুগে তাকওয়াবান মানুষ সৃষ্টিতে গাউছুল আজম যে অবদান রেখেছেন তা বিশ্বের বুকে শান্তি প্রতিষ্ঠায় অনবদ্য ভূমিকা পালন করছে। হযরত গাউছুল আজম এর এই কর্মকীর্তি যুগ যুগ ধরে স্মরণীয় হয়ে রইবে।

মীর মোহাম্মদ কায়কোবাদ বলেন, গাউছুল আজম এর দরবার আল্লাহ ও রাসুল (দঃ) এর সাথে সম্পর্ক সৃষ্টি করার দরবার। এ দরবারের সবকিছু রাসুল (দঃ)’র তাওয়াজ্জুহর স্রোতধারায় বহমান। আল্লাহ ও রাসুল (দঃ) এ দরবারকে যে কবুল করেছেন তার হাজারো প্রমাণ প্রত্যেক তরিক্বতপন্থীর হৃদয়ে হৃদয়ে বিদ্যমান। গাউছুল আজমের কারামত কখনো মুখে বলে শেষ করা যাবেনা কারন তিনি আল্লাহর প্রিয় বন্ধু।

খন্দকার রুহুল আমিন সিআইপি বলেন, বর্তমানের কঠিন যুগে যুবকদের সত্যিকারের পথে পরিচালনা করা না গেলে দেশের কাঙ্খিত মুক্তি সম্ভব নয়। আর যুবকদের সিরাতুল মোস্তাকীম এর পথে পরিচালনার জন্য গাউছুল আজমের পথই মুক্তির পথ।

ব্যারিস্টার এস.এম. কফিল উদ্দিন বলেন, দুর্নীতি নিরসনের জন্য ইসলামের অনুসরণের কোনবিকল্প নেই। আর ইসলামের প্রকৃত অনুশীলনের সত্যিকারের তালিম দিয়ে যাচ্ছেন কাগতিয়ার গাউছুল আজম।

সম্মেলনে দেশবরেণ্য ওলামায়ে কেরাম, পীর-মাশায়েখ, জাতীয় গন্যমান্য ব্যক্তিবর্গ ছাড়াও বহু আইনজীবী, শিক্ষাবিদ, সাংবাদিক, ব্যবসায়ীসহ দেশ-বিদেশের লাখো ধর্মপ্রাণ মুসলমান উপস্থিত ছিলেন।

গত সপ্তাহজুড়ে সৌদি আরব, সংযুক্ত আরব আমিরাতের দুবাই, আবুধাবী, শারজাহ ছাড়াও ওমান, বাহরাইন, কাতারসহ বহির্বিশ্বের বিভিন্ন দেশ যুক্তরাষ্ট্র, যুক্তরাজ্য, কানাডা ও অষ্ট্রেলিয়া থেকে কাগতিয়া দরবারের অনুসারী বাংলাদেশে আসতে থাকে। ঐদিন ভোর থেকেই দেশের প্রতিটি জেলা-উপজেলা থেকে বাস, ট্রেনযোগে ধর্মপ্রাণ মুসলমান সম্মেলনস্থল গুলিস্থানের কাজী বশির মিলনায়তন সম্মুখস্থ ময়দানে আসতে থাকে।

বেলা বাড়ার সাথে সাথে মাগরিবের আগেই সম্মেলনস্থল কানায় কানায় পূর্ণ হয়ে এর আশপাশের এলাকা ও সড়ক লোকে লোকারন্য হয়ে জনসমুদ্রে রুপ নেয়। এদিকে এই এশায়াত সম্মেলনকে ঘিরে প্রায় সপ্তাহ খানেক আগে থেকে রাজধানীর বিভিন্ন রাজপথ ও দালানে আলোকসজ্জিত ও ফেস্টুন দ্বারা সাজানো হয়। ঢাকার প্রবেশমুখগুলোতে এমনকি বিভিন্ন জেলা ও উপজেলা সদরেও তোরণ উত্তোলন করা হয়। চারিদিকে যেন এক সাজ সাজ রব পড়ে।

সম্মেলনে বক্তব্য রাখেন, আল্লামা মুফতি মুহাম্মদ ইব্রাহীম হানফি, আল্লামা মুফতি আনোয়ারুল আলম সিদ্দিকী, আল্লামা মোহাম্মদ আশেকুর রহমান, আল্লামা এমদাদুল হক মুনিরী, আল্লামা মোহাম্মদ সেকান্দর আলী ও আল্লামা মুহাম্মদ ফোরকান প্রমুখ।

মিলাদ-কিয়াম শেষে প্রধান অতিথি দেশ, জাতি ও বিশ্ব মুসলিম উম্মাহর সুখ, শান্তি ও সমৃদ্ধি এবং দরবারের প্রতিষ্ঠাতা গাউছুল আজম (রাঃ)’র ফুয়ুজাত কামনা করে বিশেষ মুনাজাত করেন।

LEAVE A REPLY

Please enter your comment!
Please enter your name here