কিশোর আল আমিন এখন রিক্সা ছেড়ে বই হাতে মাদরাসায়

260

মীর আসলাম(রাউজাননিউজ ঃ

নাম তার আল আমিন।  তার মনের বাসনা অন্যান্য বন্ধুদের মত বই খাতা নিয়ে স্কুলে যাবে। পড়া লেখা শিখে সমাজে অন্যদের মত শিক্ষিত হয়ে নেবেন চাকুরি। এতে হবে পরিবারের দারিদ্রতা দুর। নিজের মনের লালিত এই স্বপ্নকে বাস্তবে রূপদানে কিশোর আলামিন পড়া লেখার খরচ জোগাতে রাস্তায় বের হতো ভাড়ার রিক্সা নিয়ে। সারা দিন যতটুকু আয় করতো তার একটি অংশ দিতো সংসারের খরচ জোগাতে। বাকি কিছু টাকার রাখতো। নিজের পড়া লেখার খরচের জন্য। শিক্ষিত হওয়ার অধম্য আগ্রহী আল আমিন একদিন যাত্রীর আশায় রিক্সা নিয়ে বসেছিল রাউজানের ফকিরহাট পোস্ট অফিসের মোড়ে। এদিন তার আয় হয়েছিল সামান্যই। তবু আশায় ছিল বাড়তি আয়ের। চিন্তিত মনে রিক্সার হেণ্ডেল ধরে দাঁড়িয়ে থাকতে দেখে তার কাছে গিয়ে একজন জানতে চাইল মুন্সিরঘাটায় যাবে কিনা ? আলামিনের প্রশ্নে উত্তর পাওয়ার আগেই ওই যাত্রী বলে উঠল না তুই পারবি না। বাচ্চা ছেলে রিক্সা টানতে পারবি না। যাত্রীর এই কথা শুনে আলামিন তার পিছু নিয়ে বললো আমি পারব উঠেন। তার দিকে চেয়ে মায়া হলো। বসলাম রিক্সায় চেপে। যেতে যেতে জানতে চাইলাম এত ছোট বয়সে কেন রিক্সা চালাচ্ছে। রিক্সা টানতে টানতে বললো তার অভাবী সংসারের কথা। জানালো পড়া লেখার শিখার অধম্য আগ্রহের কথা। আলামিনের কাছ থেকে জানলাম তার দরিদ্র পরিবারের পক্ষে লেখাপড়া খরচ চালানো অক্ষম। তাই নিজের পড়ালেখার খরচ জোগাতে তাকে রিক্সা চালাতে হয়। সমাগত জুনিয়র দাখিল পরীক্ষার (জেডিসি) ফরম পূরণের টাকা জোগাড় করতে হবে। এই জন্য রাস্তায় বেশি সময় থাকতে হয় রিক্সা নিয়ে। কিশোর আলামিনের কথা শুনে তার বক্তব্যের সত্যতা যাছাই করতে ফোন দেয়া হয় তার শিক্ষা প্রতিষ্ঠানে। সত্যতা পেয়ে সিদ্ধান্ত নেয়া হয় তার পাশে দাঁড়ানোর। মানবিক দৃষ্টিকোণ থেকে আমি বিষয়টি শেয়ার করলাম আমার প্রতিষ্ঠান “সেন্ট্রাল বয়েজ অব রাউজান” এর প্রেরণার শক্তি তরুন সমাজ সেবক ফরাজ করিম চৌধুরী ও প্রধান পৃষ্ঠপোষক সাইফুল ইসলাম চৌধুরী রানার সাথে। তারা আমার কাছ থেকে আলামিনের যাবতিয় জীবন কাহিনী শুনে সহায়তা দেয়ার সিদ্ধান্ত দেন। আমরা আমাদের প্রতিষ্ঠান থেকে তাকে দিলাম পরীক্ষা দেয়ার যাবতিয় খরচ। আলামিন আমাদের সহযোগিতা পেয়ে চলে যায় রিক্সা ছেড়ে। তাকে দেখা যায়নি অনেকদিন রাস্তায়। হঠাৎ একদিন আলামিন এসে হাজির মুন্সিরঘাটায়। সাথে ছিল না সেই রিক্সাটি। দেখা পেয়ে পায়ে ধরে সালাম করে বলল আমি জুনিয়র দাখিল পরীক্ষায় পাস করেছি। এসেছি এই সংবাদ জানাতে। তার কথা শুনে খুশি হলাম। বিষয়টি আমি জানালাম সংগঠনের কর্ণধার ফরাজ করিম চৌধুরী ও আমাদের প্রধান পৃষ্ঠপোষক সাইফুল ইসলাম রানাসহ সংশ্লিষ্টদের। তারও খুশি হলো। সিদ্ধান্ত হলো তাকে এগিয়ে যেতে সহয়োগিতা করা হবে। যাবতিয় খরচ দিয়ে আবার ভর্তি করিয়ে দেয়া হবে নবম শ্রেণিতে। সহযোগিতা দিয়ে যাওয়া হবে তাকে অবিষ্ট লক্ষ্যে পৌঁছে দিতে। এই সিদ্ধান্তের আলোকে ২৭ জানুয়ারি রোববার আলামিনকে ৯ম শ্রেনীতে ভর্তি করে হাতে দেয়া হয়েছে পাঠ্য সহায়ক গাইড বই ও শিক্ষা উপকরণ। রোববার তার হাতে বইসহ শিক্ষা সামগ্রী তুলে দেন “সেন্ট্রাল বয়েজ অব রাউজান” নেতৃবৃন্দ। রাউজান নিউজকে আলামিনের এই কাহিনী ও মানবিক সহায়তার বিষয়টি জানিয়েছেন “সেন্ট্রাল বয়েজ অব রাউজান” এর সভাপতি সাইদুল ইসলাম, কর্মকর্তা ইমতিয়াজ জামাল নকিব ও মঈনুদ্দিন জামাল চিশতি।

LEAVE A REPLY

Please enter your comment!
Please enter your name here