বিশেষ দিনে মনের মাঝে জাগ্রত স্মৃতি নিয়ে ফরাজ করিম চৌধুরীর অনুভূতি

797

মীর আসলাম(রাউজাননিউজ) ঃ

আধুনিক সভ্যতার ঘুর্ণিমান চাকায় আমরা সামনের দিকে এগুচ্ছি। দ্রুতগতিতে অগ্রসরমান সমাজ সভ্যতার দিকে এগুনোর পথে পথে আমারা চোখের পলকেই অনেক কিছুতে পরিবর্তন। আমরা দেখছি সমাজ সংস্কৃতির পরিবর্তিত উত্থান। উত্থান পতনের এই ধারায় আমাদের স্মৃতি থেকে হারিয়ে ফেলছি জীবনধারার সাথে যুক্ত অতীতের সবকিছু। এমনকি-স্নেহ,ভালবাসা,মায়া-মততার বন্ধনটুকুও স্মৃতি থেকে মুছে ফেলছি মনের অজান্তে। এরমধ্যেও মানুষের মাঝে এমন কিছু স্মৃতি আছে,যেগুলো শত চাপেও ঢাকা পড়ে না মনের মনিকোঠা থেকে। এসব স্মৃতি আমাদের জীবনের বিশেষ বিশেষ দিন অথবা মুর্হুতে নাড়া দেয়। মনের আয়নায় ভেসে উঠে পুরানো দিনের এই স্মৃতিগুলো। যেই স্মৃতি মানুষকে কোনো সময় কাঁদায়, আবার কোনো সময় আনন্দ দেয়, আগামীর দিকে এগুতে সঞ্চার করে শক্তি,সাহস। বুকের ভিতর প্রেরণা জাগায় অতীতের সুখময় স্নেহ,ভালবাসার বন্ধনের দিনগুলোতে ফিরে যেতে।

বলা যায়, মানুষের সুখ জাগানিয়া দিনগুলি মনে পড়তেই মনের আয়নায় ভেসে উঠে, সেই রঙিন দিনগুলো- সেই সময় যাঁদের স্নেহে আমরা লালিত হয়েছি। বলা যায় আমাদের শ্রদ্ধেয় মা-বাবাসহ শিশু,কিশোরকালে যাদের স্নেহ ভালবাসা এতটুকু বেড়ে উঠেছি। যাদের নীতি আদর্শে জীবন গড়েছি। চলমান জীবনধারায় এগিয়ে যাওয়ার মাঝে অতীতের সেই মধুময় একটি স্মৃতির কথা নিজের ফেইজবুক পেইজে তুলে ধরেছেন সুন্দর সমাজ বিনির্মাণে কাজ করে যাওয়া রাউজানের তরুন রাজনীতিক ফরাজ করিম চৌধুরী। তিনি আন্তর্জাতিক নারী দিবসের এই বিশেষ দিনে প্রিয়জনদের সাথে একটি ছবি পোস্ট দিয়ে যেভাবে নিজের অনুভূতি প্রকাশ করেছেন তা তুলে ধরা হলো

রাউজাননিউজের পাঠকদের জন্য—
ফরাজ করিম চৌধুরীর প্রকাশ করা অনুভুতি-

আন্তর্জাতিক নারী দিবসে আমার জীবনে দেখা ৩ জন সাহসী নারীর সাথে তোলা আমার একটি ছবি আজ আপনাদের সাথে শেয়ার করছি। ছবিটি অনেকদিন আগের। আমার পাশে যিনি দাঁড়ানো তিনি আমার মা। পুরুষ শোষিত আদালতে একজন সাহসী নারী আইনজীবী তিনি। এক সময় ব্যারিস্টার ইউসুফ নামে সকলে চিনতো আমার নানাকে, কিন্তু এখন ব্যারিস্টার ইউসুফ আমার মায়ের পরিচয়।
ছবির সবচেয়ে ডান পাশের মহিলাটি আমার নানু। আমি ছোট বেলা থেকে নানুকে ‘জান’ বলে ডাকি। আমার দেখা অতি সাধারণ একজন মানুষ হলেও আমার বেড়ে উঠা থেকে আজকে এতদূর আসার পিছনে অসাধারণ ভূমিকা পালন করেছেন।

আর মাঝখানে যিনি আছেন তাকে নিশ্চয় আমার পরিচয় করিয়ে দিতে হবে না। প্রধানমন্ত্রী হিসেবে তিনি কেমন তা আজ বলতে চাই না। বরং একজন নারী হিসেবে তিনি কেমন তা আজ তুলে ধরতে চাই। জননেত্রী শেখ হাসিনা নারী হিসেবে একজন অনন্য ব্যক্তিত্ব। উনার জীবনের পথচলা দল-মত নির্বিশেষে সকল অসহায় নারীদের জন্য অনুপ্রেরণা হিসেবে কাজ করবে বলে আমি মনে করি। কিভাবে উনারা দুই বোন (শেখ হাসিনা ও শেখ রেহানা) ১৯৭৫ সালের ১৫ আগস্ট থেকে আজ এতদূর এসেছেন তা এক আল্লাহ আর তারা ২ বোন ছাড়া আমাদের হয়তো কারো জানা নেই। তাদের দুর্গম যাত্রা অনেকটা আমরা ‘হাসিনা এ ডটার্স টেইল’ সিনেমাটি দেখে উপলব্ধি করতে পারলেও বাস্তবে সেই যাত্রা ছিল আরো অনেক কঠিন ও বেদনায়ক। আজ একটি কথা আপনাদের সামনে তুলে ধরছি। ১৯৬৬ সাল থেকে মাননীয় প্রধানমন্ত্রী আমার নানুর বন্ধু।

বয়সের কারণে আমার নানু এখন তেমন একটা বাসা থেকে বের হয় না এবং মাননীয় প্রধানমন্ত্রীর সাথে দেখাও হয় না। সেই কারণে এই ছবিটি আমার জীবনের ইতিহাসের অংশ হিসেবে থাকবে। মাননীয় প্রধানমন্ত্রী সম্পর্কে আমার নানু বলেন, “ওর গুণ গুলোর মধ্যে আমার সবচেয়ে যেটা বেশি মনে পরে তা হচ্ছে সে খুব সাধারণ ছিল, মুখে হাসি ছিল, মিশুক ছিল আর সবচেয়ে বড় জিনিস হচ্ছে নামাজ আদায়ের জন্য কোন সময় অবহেলা করতো না।”

LEAVE A REPLY

Please enter your comment!
Please enter your name here