চট্টগ্রামে মনোনয়নপত্র নিলেন আরও ২০ প্রার্থী

22

আসন্ন জাতীয় সংসদ নির্বাচনের মনোনয়নপত্র বিতরণের অষ্টম দিনে গতকাল চট্টগ্রামের ১৬টি সংসদীয় আসনে বিভিন্ন রাজনৈতিক দলের আরো ২০ প্রার্থী মনোনয়নপত্র সংগ্রহ করেছেন। এরমধ্যে আওয়ামী লীগ ৪টি, বিএনপি-১২টি, বাংলাদেশ ইসলামী ফ্রন্ট ২টি এবং বাংলাদেশ সমাজতান্ত্রিক দল (বাসদ), বিএনএফ ও ইসলামী ঐক্যজোটের তিনপ্রার্থী একটি করে মনোনয়নপত্র সংগ্রহ করেছেন।
চট্টগ্রাম জেলার সিনিয়র নির্বাচন কর্মকর্তা মো. মুনীর হোসাইন খান জানান, চট্টগ্রাম ১০ (ডবলমুরিং ও পাহাড়তলী) ও ১১ (বন্দর) আসন থেকে দুটি মনোনয়নপত্র নিয়েছেন বিএনপির আমীর খসরু মাহমুদ চৌধুরী। এছাড়া ১০ আসন থেকে বিএনপির আব্দুল্লাহ আল নোমান, চট্টগ্রাম-৮ ( বোয়ালখালী-চান্দগাঁও আংশিক) আসন থেকে আওয়ামী লীগের রেজাউল করিম চৌধুরী, চট্টগ্রাম-৯ ( কোতোয়ালী-বাকলিয়া) আসন থেকে বিএনপির ডা. শাহাদাত হোসেন ও মো. আবুল হাশেম, চট্টগ্রাম-৫ (হাটহাজারী) আসন থেকে বিএনপির মীর মোহাম্মদ নাছির উদ্দিন ও মীর মোহাম্মদ হেলাল উদ্দিন, চট্টগ্রাম-৮ আসন থেকে বিএনএফ’র এস এম ইকবাল হোসেন, চট্টগ্রাম-৪ (সীতাকুণ্ড) আসন থেকে বাংলাদেশ ইসলামী ফ্রন্টের মুহাম্মদ আশরাফ হোসাইন, চট্টগ্রাম-১০ আসন থেকে আওয়ামী লীগের মহিউদ্দিন বাচ্চু এবং চট্টগ্রাম-৯ আসন থেকে বিএনপির মো. সামশুল আলম বিভাগীয় কমিশনারের কার্যালয় থেকে মনোনয়নপত্র সংগ্রহ করেছেন। অন্যদিকে জেলা প্রশাসকের কার্যালয় থেকে মনোনয়পত্র সংগ্রহ করেছেন চট্টগ্রাম-১ (মীরাসরাই) আসনে বিএনপির মাহবুবুর রহমান, চট্টগ্রাম-৭ (রাঙ্গুনিয়া) আসন থেকে মোহাম্মদ ফয়সাল ইকবাল চৌধুরী, চট্টগ্রাম-১২ (পটিয়া) আসন থেকে বিএনপির মো. এনামুল হক এবং চট্টগ্রাম-১৬ (বাঁশখালী) আসন থেকে বিএনপির মো. লেয়াকত আলী।
এছাড়া সিনিয়র জেলা নির্বাচন অফিসারের কার্যালয় থেকে মনোনয়ন পত্র নিয়েছেন চট্টগ্রাম-১০ আসনে আওয়ামী লীগের মো. আফছারুল আমীন, চট্টগ্রাম-১০ আসন থেকে বাংলাদেশ সমাজতান্ত্রিক দলের (বাসদ) মো. মহিন উদ্দিন এবং চট্টগ্রাম-১৪ (চঁন্দনাইশ-সাতকানিয়া আংশিক) আসন থেকে বিএনপি’র কাজী মোজাম্মেল হক চৌধুরী। অপরদিকে নিজ উপজেলা থেকে থেকে চট্টগ্রাম-১২ আসনের মনোয়নপত্র নিয়েছেন বাংলাদেশ ইসলামী ফ্রন্টের এম এ মতিন এবং চট্টগ্রাম-৫ আসনের ইসলামী ঐক্যজোটের সম্ভাব্য প্রার্থী মঈন উদ্দিন রুহী।
উল্লেখ্য, এখন পর্যন্ত চট্টগ্রামের ১৬টি সংসদীয় আসনে বিভিন্ন রাজনৈতিক দলের সম্ভাব্য প্রার্থীরা সর্বমোট ১০৮টি মনোননয়পত্র সংগ্রহ করেছেন। এরমধ্যে সর্বোচ্চ ৩২টি ফরম নিয়েছে বিএনপি। এছাড়া আওয়ামী লীগ ২০টি, ইসলামী আন্দোলন বাংলাদেশ ১২টি, ইসলামিক ফ্রন্ট বাংলাদেশ ৫টি, জাতীয় পার্টি ৪টি, বাংলাদেশ ইসলামী ফ্রন্ট ৩টি, কল্যাণ পার্টি ৩টি, জাতীয় সমাজতান্ত্রিক দল (জাসদ) ২টি, ইসলামী ঐক্যজোট ২টি, এলডিপি ২টি, জাকের পাটি ত্বরিকত ফেডারেশন, বিএনএফ, ন্যাপ, বাসদ একটি করে মনোনয়নপত্র সংগ্রহ করেছে। এছাড়া স্বতন্ত্র প্রার্থী হিসেবে মনোনয়নপত্র নিয়েছেন ১৬ জন। এছাড়া অন্যন্য রাজনৈতিক দল দুটি মনোনয়নপত্র সংগ্র করে।
এদিকে গতকাল মধ্যরাত ১২টায় শেষ হয়েছে নির্বাচনকেন্দ্রিক ব্যানার ফেস্টুন অপসারণের সময়সীমা। তাই আজ থেকে নির্বাচনী আচরণবিধি তদারকি করতে মাঠে নামছে জেলা প্রশাসনের ২৭ ম্যাজিস্ট্রেট। ইতোমধ্যে চট্টগ্রামকে মহানগরী ও জেলাকে দুইভাগে ভাগ করে ১৩ জন নির্বাহী ম্যাজিস্ট্রেটকে নগরীতে এবং ১৪ জন নির্বাহী ম্যাজিস্ট্রেটকে বিভিন্ন উপজেলায় ৩১ ডিসেম্বর পর্যন্ত নির্বাচনী দায়িত্ব পালনের আদেশ দিয়েছেন প্রশাসক। এর আগে গত ১২ নভেম্বর জনপ্রশাসন মন্ত্রণালয়কে চিঠি দিয়ে জাতীয় সংসদ নির্বাচনের ৩০০ আসনে নির্বাচনী আচরণবিধি পালন করার জন্য নির্বাহী ম্যাজিস্ট্রেট নিয়োগ দেয়ার নির্দেশনা দেয় নির্বাচন কমিশন।
এ ব্যাপারে চট্টগ্রাম জেলার সিনিয়র নির্বাচন কর্মকর্তা মো. মুনীর হোসাইন খান দৈনিক আজাদীকে বলেন, কোনো প্রার্থী নির্বাচন আচরণবিধি ভঙ্গ করলে তার বিরুদ্ধে ব্যবস্থা নেয়া হবে। ব্যক্তিগত প্রচারণার ব্যানার ফেস্টুন অপসারণের সময়সীমা নির্ধারণ করে দেয়া হলেও অনেক স্থানে প্রার্থীরা সেইসব এখনো অপসারণ করেনি। তাই সোমবার (আজ) থেকে প্রশাসনের ম্যাজিস্ট্রেটরা এসব অপসারণে অভিযান চালাবে।

LEAVE A REPLY

Please enter your comment!
Please enter your name here